Ajker Patrika

নওগাঁর বদলগাছী: ছোট যমুনার বালু লুট ঝুঁকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প

  • দেড় বছর ধরে দিনরাত চলছে বালু উত্তোলন
  • ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা
  • গত ২৯ এপ্রিল থানায় একটি মামলা হয়েছে
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি 
নওগাঁর বদলগাছী: ছোট যমুনার বালু লুট
ঝুঁকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প
নওগাঁর বদলগাছীতে ছোট যমুনার পাড় থেকে মাটি কেটে ট্রাকে তুলছেন শ্রমিকেরা। সম্প্রতি তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

নওগাঁর ছোট যমুনা নদী এখন বালুখেকোদের করাল গ্রাসে পড়েছে। বদলগাছীর নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প-সংলগ্ন নদীর বুক চিরে দিনরাত চলছে বালু লুট। প্রভাবশালী চক্রের লাগামহীন এই তাণ্ডবে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অবাধে বালু লুটের কারণে বর্ষা মৌসুমে যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ শতাধিক পরিবারের স্বপ্ন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট যমুনা নদীর নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুই পয়েন্টে যেন বসেছে বালুর কালোবাজার। ট্রাক্টরের অবিরাম যাতায়াত চলছে। নদীর পাড়জুড়ে বালুর বিশাল স্তূপ।

ইতিমধ্যে নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে চলছে এই অবৈধ বালু সাম্রাজ্য। প্রতিবাদ করলেই হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।

শুধু আশ্রয়ণ প্রকল্পই নয়, হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।

স্থানীয় কৃষক হানিফ বলেন, ‘মিজান, দেলোয়ার, সুমন, হিরো নামের কয়েকজন ইসবপুর ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতারা গত দেড় বছর ধরে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করছেন। আমি বাধা দিয়েছিলাম। আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। পরে আমিসহ কয়েকজন ফসল রক্ষার জন্য কিছু জায়গা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছি। সরকার ইজারা দেয়নি। তাঁরা ক্ষমতার জোড়ে এসব করছেন। বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

এ বিষয়ে ইসবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হিরো বলেন, কে বা কারা বালু উত্তোলন করছেন, আমি জানি না। যাঁদের দেখেছেন তাঁরাই হয়তো বালু উত্তোলন কাজের সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে বেশ কয়েক দিন অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু অভিযানের খবর পেয়ে কেউ ঘটনাস্থলে থাকে না। তবে কিছু জায়গায় বালুর স্তূপ রয়েছে। সেগুলো জব্দের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জান্নাত আরা তিথি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না।

বদলগাছী থানার ওসি মো রুহুল আমিন বলেন, বালু লুটের বিষয়ে গত ২৯ এপ্রিল থানায় একটি মামলা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত