Ajker Patrika

বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই সরকারি রাস্তার ২৩৭ গাছ কাটা হচ্ছে, নেপথ্যে স্থানীয় মহিলা দলের নেত্রী

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৯: ২২
বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই সরকারি রাস্তার ২৩৭ গাছ কাটা হচ্ছে, নেপথ্যে স্থানীয় মহিলা দলের নেত্রী
বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়াই কাটা হচ্ছে সরকারি রাস্তার গাছ। ছবি: আজকের পত্রিকা

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বনবিভাগের কোনো অনুমোদন ছাড়াই তিনটি সরকারি রাস্তার ২৩৭টি ইউক্যালিপটাস ও আম গাছ নিলামে বিক্রি করে কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রসাদপুর ইউনিয়নে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা এসব গাছ কাটার নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় মহিলাদল নেত্রী ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম এবং ফ্যামিলি ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েন দ্বারিয়াপুর (এফডব্লিউএডি) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে মণ্ডলপাড়া, খাঁপাড়া ও প্রামানিকপাড়া সরকারি রাস্তায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ২০০৫ সালে ইউক্যালিপটাস ও আম গাছের চারা রোপণ করা হয়। পরে হঠাৎ করেই গাছগুলো বিক্রির উদ্যোগ নেয় এফডব্লিউএডি।

সংস্থাটি বিক্রির জন্য ১২০টি ইউক্যালিপটাস ও ১১৭টি আম গাছ চিহ্নিত করে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গাছের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে যাবে।

গত ৬ জুলাই বেসরকারি সংস্থাটির চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলাদলের সহসভাপতি আসমা ইসলাম গাছগুলো নিলামে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। বনবিভাগের অনুমোদন না থাকায় গাছ ব্যবসায়ীরা ডাকে অস্বীকৃতি জানালে ওই নিলাম কার্যক্রম ভেস্তে যায়।

এরপর আবারও নিলাম ডাকার আয়োজন করা হয়। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে দ্বারিয়াপুর স্কুল-সংলগ্ন মোড়ে এ নিলাম ডাক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২১ জন গাছ ব্যবসায়ী অংশ নেন। ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকায় গাছগুলো নিলামে কিনে নেন দ্বারিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা গাছ ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ।

নিলাম ডাক কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন প্রসাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডল, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপিনেত্রী আসমা ইসলাম, এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান খান, প্রধান শিক্ষক সদেরুল ইসলাম, গ্রামপুলিশ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, নিলাম ডাকের পরদিন আজ সোমবার আব্দুস সামাদ শ্রমিক লাগিয়ে গাছ কাটা শুরু করেন। তাদের দাবি, ইতিমধ্যে অন্তত ৫০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে সরকারি রাস্তার গাছ কাটা হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন তারা।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা মহিলাদলের সহসভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম বলেন, `দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নয়, ইউনিয়ন পরিষদের সব নীতিমালা মেনেই গাছগুলোর টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসকে অবগত করা হয়েছে।'

এফডব্লিউএডির চেয়ারম্যান কেএম লুৎফর রহমান বলেন, `মোবাইলফোনে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না। তথ্য নিতে হলে অফিসে আসতে হবে'—এ কথা বলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

মান্দা উপজেলা বন কর্মকর্তা আহমেদ আলী মণ্ডল বলেন, `বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার দপ্তরে এ ধরনের কোনো আবেদনও করা হয়নি। তবে বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়া সরকারি রাস্তার গাছ এভাবে কেউ কেটে নিতে পারেন না।'

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, ওইসব রাস্তার গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির অনুমোদনের জন্য এ দপ্তরে কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে কয়েকদিন আগে একটি অবগতিপত্র দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত