Ajker Patrika

৩০৭ কমিউনিটি ক্লিনিকের বেশির ভাগই জরাজীর্ণ

নওগাঁ সংবাদদাতা
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১১: ২৮
৩০৭ কমিউনিটি ক্লিনিকের বেশির ভাগই জরাজীর্ণ
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের ছাতড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল ভবন। ছবি: আজকের পত্রিকা

নওগাঁ জেলায় প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয়েছিল ৩০৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জেলার বেশির ভাগ ক্লিনিকই এখন জরাজীর্ণ। কোথাও কোথাও ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও সেখানেই চলছে চিকিৎসাসেবা। এসব প্রতিকূলতার মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।

জেলার সদর, মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর ও বদলগাছী উপজেলার ২০টি কমিউনিটি ক্লিনিক সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ভবনগুলোতে বছরের পর বছর সংস্কার হয়নি। বিভিন্ন স্থানে দেয়াল ও ছাদে ছোট-বড় ফাটল, ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে চিকিৎসা। বহু ক্লিনিকে নেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী, কোথাও ওষুধের সংকট। কোথাও আবার নেই নিয়মিত বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা। অনেক ক্লিনিকের শৌচাগার নষ্ট হয়ে আছে বহুদিন। ব্যবহারের অনুপযোগী এসব ভবনে অবস্থান করতে গিয়ে রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সব সময়ই আতঙ্কে থাকেন।

জানা গেছে, আগে এসব ক্লিনিকে ২৭ ধরনের ওষুধ দেওয়া হতো। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২২ ধরনের। তার মধ্যে কৃমি, স্ক্যাবিস, গ্যাস, চর্মরোগ ও প্রজননজনিত রোগের সাধারণ ওষুধই মূলত পাওয়া যায়। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রোগীরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ পান না। আবার স্বাস্থ্যকর্মী না পাওয়ায় সেবা না নিয়ে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও সাধারণ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অযত্ন-অবহেলায় সময়মতো ভবন সংস্কার না হওয়ায় ক্লিনিকগুলোর মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় চিকিৎসাসেবা চললেও নতুন ভবনের উদ্যোগ নেই। অনেকে চিকিৎসা নিতে এসে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ঢালাই খসে পড়ে আহত হওয়ার আতঙ্কে থাকে। তাদের আশা, নতুন ভবন নির্মাণ হলে সেবার মান বাড়বে, কমবে গ্রামীণ মানুষের ভোগান্তি।

জানতে চাইলে নিয়ামতপুর উপজেলার কন্যাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী (সিএইচসিপি) ইমরান হোসেন বলেন, ‘ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বিকল্প না থাকায় এই ভবনে ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছি। যখনই থাকি, আতঙ্কের মধ্যে থাকি। মাঝেমধ্যে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে।’

মহাদেবপুর উপজেলার চান্দাশ কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি বিলকিস আক্তার বলেন, ‘অযত্ন-অবহেলায় ক্লিনিকটি পরিত্যক্ত হওয়ার পথে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে, একটু বৃষ্টি হলেই পানি ঢুকে কাগজপত্র আর আসবাব নষ্ট হয়। তাই ছাদের ওপর পলিথিন টানানো হয়েছে। পানি ও বিদ্যুৎ থাকলেও একমাত্র টয়লেটটি তিন-চার বছর ধরে অচল।’

এ বিষয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে কয়টি কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করেছি, দৃশ্য খুবই হতাশাজনক। দুই-তৃতীয়াংশ ভবনই জরাজীর্ণ। সংস্কার করেও অনেক ক্ষেত্রে কাজ চলবে না। পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি চলতি অর্থবছরে কিছু ভবনের কাজ শুরু হতে পারে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত