Ajker Patrika

ছাত্রদল নেতাকে পেটানো সেই ইউএনওর বিরুদ্ধে এবার ২২ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  
আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০: ২৮
ছাত্রদল নেতাকে পেটানো সেই ইউএনওর বিরুদ্ধে এবার ২২ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী। ছবি: সংগৃহীত

গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ২২ লাখ টাকা দাবি এবং চুক্তির বাইরে কাজ করতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ দিয়ে আটকের অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। পরে ইউএনওর চাপিয়ে দেওয়া কাজ করে দেওয়ার শর্তে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন ‘বিশ্বাস অ্যাগ্রো ফিশারিজ’-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আনোয়ার হোসাইন।

সাবেক এক ছাত্রনেতাকে ইউএনওর মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আনোয়ার হোসাইন অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। ঘটনাটি গত ৭ মে দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে ইউএনওর কার্যালয়ে ঘটে বলে জানান তিনি।

আনোয়ার হোসাইনের দাবি, উন্নত প্রযুক্তিতে মাছ চাষ পদ্ধতির একটি গবেষণা প্রকল্পে ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে বিশ্বাস এগ্রো ফিশারিজ। সেই কার্যক্রমের সূত্র ধরে তাঁকে ইউএনওর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয় এবং ২২ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

তিনি আরও জানান, চুক্তিতে না থাকায় কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে ওই টাকা দিতে অপারগতা জানালে ইউএনও পুলিশ ডেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করান। পরে জেল-জুলুম এড়াতে বাধ্য হয়ে নির্ধারিত কাজ করে দেওয়ার শর্তে মুচলেকা দিয়ে তিনি ছাড়া পান।

ভুক্তভোগী ‘বিশ্বাস অ্যাগ্রো ফিশারিজ’-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আনোয়ার হোসাইন। ছবি: আজকের পত্রিকা
ভুক্তভোগী ‘বিশ্বাস অ্যাগ্রো ফিশারিজ’-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আনোয়ার হোসাইন। ছবি: আজকের পত্রিকা

আনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘পাঁচ ফুটের একটি রাস্তা আরও সাত ফুট প্রশস্ত করার দাবি জানানো হয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায় এক ফুট বাড়ানোর শর্তে আমরা রাজি হই। তবে কাজ শুরুর পর জোর করে আবারও এক মিটার প্রশস্ত করতে বলা হয় এবং আমরা নিরুপায় হয়ে তা করতে বাধ্য হই।’

উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তির বাইরে গিয়ে সরকারের ক্ষতি হয়েছে—এমন দোহাই দিয়ে ইউএনও তাঁর ওপর অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ করে আনোয়ার বলেন, ‘যেকোনো গবেষণায় আর্থিক ক্ষতি হতেই পারে। মাছ চাষের এই প্রকল্পে আমাদেরও প্রায় ৪৫ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এরপর এমন হয়রানির শিকার হয়ে আমি বিব্রত ও লজ্জিত। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

এ বিষয়ে জানতে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত