Ajker Patrika

চিরকুমার মৃত মুক্তিযোদ্ধার ৭ বছরের ভাতা ব্যাংকে, ছেলে পরিচয়ে তুলতে চান ভাতিজা

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
চিরকুমার মৃত মুক্তিযোদ্ধার ৭ বছরের ভাতা ব্যাংকে, ছেলে পরিচয়ে তুলতে চান ভাতিজা
মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল করিম খালেদের ভাতিজা হামিদুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর সাত বছর পরও ব্যাংক হিসাবে নিয়মিত জমা হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধার সরকারি ভাতা। আর সেই ভাতার টাকা হাতিয়ে নিতে চিরকুমার মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে নিজের বাবা উল্লেখ করে ওয়ারিশ সনদের আবেদন করেছেন মো. হামিদুর নামের এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের উলুহাটি গ্রামের।

জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল করিম খালেদ উলুহাটি গ্রামের মৃত আক্তার উদ্দিনের পুত্র। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিয়ে না করে চিরকুমার থেকে যান। গত ২০১৯ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি মারা যান। প্রায় সাত বছর আগে মারা গেলেও তাঁর নামে নান্দাইল সোনালী ব্যাংক শাখায় মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা নিয়মিত জমা হচ্ছে। এদিকে ওই টাকা তুলতে মুক্তিযোদ্ধার ভাতিজা মো. হামিদুর নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার একমাত্র ছেলে ও ওয়ারিশ দাবি করেছেন এবং ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা উত্তোলনের জন্য পাঁয়তারা শুরু করেছেন। কিন্তু হামিদুর রহমানের প্রকৃত বাবা নজরুল ইসলাম জীবিত রয়েছেন। হামিদুর তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রে জালিয়াতি করে নিজের চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল করিম খালেদকে বাবার নামের স্থানে বসিয়েছেন।

এদিকে হামিদুর রহমান ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে নুরুল করিম খালেদের মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করেন ১০ মে ২০২০ সাল। একই ব্যক্তির দুবার কীভাবে মৃত্যু হয়—বিষয়টি জানাজানি হলে নজরে আসে। অন্যদিকে ভাতার টাকার খবর জানতে পেরে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাই-বোনেরাও ব্যাংকে গিয়ে ওয়ারিশ দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমারে আমার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধার নুরুল করিম খালেদ পালক নিয়েছিল। সে থেকেই উনাকে বাবা বলে ডাকি। এখানে তো জালিয়াতি করিনি।’ নিজের বাবা বেঁচে আছে, তাহলে চিরকুমার মুক্তিযোদ্ধা কীভাবে বাবা হন—এমন প্রশ্ন করলে এড়িয়ে যান তিনি।

হামিদুর রহমানের প্রকৃত বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেডারে তো পালক দিয়ে দিছিলাম আমার ভাইয়ের কাছে। সে থেকেই তো তাঁকে বাবা ডাকে। তাঁর সব কিছুই তো সে পাবে।’

সোনালী ব্যাংক নান্দাইল শাখার ব্যবস্থাপক শরফুল আজিজ বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু সনদ জমা দেয়নি। সে জন্য আমরা ভাতার টাকা বন্ধ করতে পারিনি। এখন বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে, দ্রুতই নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, গুরুত্বসহকারে পুরো ঘটনার খোঁজ নিয়ে সঠিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত