Ajker Patrika

মুন্সিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি: ১৯ জন গ্রেপ্তার, মালামাল উদ্ধার

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি: ১৯ জন গ্রেপ্তার, মালামাল উদ্ধার
উদ্ধার হওয়া মালামাল। ছবি: সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি মুসলিমনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ১৪ জুলাই চারজন, ১৫ জুলাই ১০ জন ও ১৮ জুলাই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ ও বিপুল পরিমাণ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ রোববার বিকেলে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনসে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মঈন উদ্দিন (৪৫), ছোটন (৩০), রিয়াজুল ইসলাম (২৬), আবুল খায়ের (৪০), শাহ আলম (২৩), রনি শিকদার (৩৪), মেহেদী হাসান (৩৮), মনোরঞ্জন দাস (২৭), মো. আল আমিন সানা (১৯), অলোকেশ মণ্ডল (৩৫), সারাফত উদ্দিন সুমন (২৪), অলিউর রহমান (২৪), জামাল (৪০), মৃদুল আহম্মেদ তুষার (২৬), সজল হোসেন (৩০), আরিফ (৪০), মিরাজ (৪০), আলী (৪০) ও রফিক (৩৩)।

পুলিশ সুপার বলেন, ১১ জুলাই রাত ২টার দিকে তিন-চারজন সশস্ত্র ডাকাত সদস্য দ্য জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্টোর ও স্ট্যাক ইয়ার্ডে প্রবেশ করেন। তাঁরা নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা ও চোখ বেঁধে একটি কনটেইনার কক্ষে আটকে রাখেন। পরে কনস্ট্রাকশন সাইটে থাকা ৪০-৫০ লাখ টাকার মালামাল ট্রাকে তুলে নিয়ে যান। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গজারিয়া থানা-পুলিশ দ্রুত পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

মুন্সিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
মুন্সিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

পুলিশ সুপার জানান, ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হলুদ রঙের ট্রাক শনাক্ত করা হয়। পরে ট্রাকটির মালিকসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ১৪ জুলাই গজারিয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের পর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় ট্রাক জব্দ ও চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সহযোগী ও শ্রমিকসহ মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, দুটি পৃথক গ্রুপের সমন্বয়ে পরিকল্পিতভাবে এ ডাকাতি হয়। ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শাওন, সজল ও রিয়াজুল এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। এর মধ্যে সজল হোসেন ও রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার তেজগাঁও থেকে একটি দল গজারিয়ায় এসে স্থানীয় সহযোগী ও শ্রমিকদের সহায়তায় নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে মালামাল লুট করে।

মুন্সিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পর প্রেস ব্রিফিং করছেন পুলিশ সুপার। ছবি: আজকের পত্রিকা
মুন্সিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পর প্রেস ব্রিফিং করছেন পুলিশ সুপার। ছবি: আজকের পত্রিকা

অভিযানে উদ্ধার ও জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে—ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক, চারটি ব্যাটারি, ১০টি ফ্যান, একটি পাওয়ার সাপ্লাই, দুটি মোটর, দুটি ডায়নামো, একটি ৩০ হর্স পাওয়ার মোটর, একটি চায়না ডিজেল ইঞ্জিন, একটি মিগ ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক রড কাটার মেশিন, একটি ডিবি বোর্ড, পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক পাম্প, একটি এসি মেশিন, ১০ ফুট লম্বা একটি পাইপ ও সাড়ে পাঁচ টনের মতো লোহার বিভিন্ন সামগ্রী।

পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, ‘ডাকাত চক্রে ২৩-২৪ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদ্‌ঘাটনে থানা-পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত