
জীবনের পথ কখনোই মসৃণ নয়। আসে ক্লান্তি, আসে অনিশ্চয়তা, আসে থেমে যাওয়ার প্রলোভন। কিন্তু যাঁরা সেই মুহূর্তগুলোতে নিজেদের ওপর বিশ্বাস হারান না, শেষ পর্যন্ত সাফল্য তাঁদের হাতেই ধরা দেয়। আমার বিসিএস যাত্রার গল্পও তেমনই। আজ পেছনে তাকালে মনে পড়ে অসংখ্য নির্ঘুম রাত, টেবিলের সামনে কাটিয়ে দেওয়া দীর্ঘ সময়, ছোট ছোট ত্যাগের হিসাব। সেই পরিশ্রম আজ পূর্ণতা পেয়েছে। যাঁরা ভাবছেন, ‘এত বড় সিলেবাস কোথা থেকে শুরু করব?’ কিংবা ‘চাকরি সামলে বিসিএস সম্ভব?’—তাঁদের জন্য থাকছে অভিজ্ঞতার আলোকে পরামর্শ।
আমি ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে পড়েছি। স্বাভাবিকভাবে করপোরেট জগৎ কিংবা ব্যাংকিং খাতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ ছিল। চাকরিও করেছি ব্যাংকে। তবু মনে হতো, আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চাই। রাষ্ট্র ও মানুষের জন্য সরাসরি কিছু করার ইচ্ছাই আমাকে সিভিল সার্ভিসের পথে নিয়ে আসে। অনেকে মনে করেন, বিসিএসে সফল হতে হলে সারাক্ষণ বই নিয়েই থাকতে হয়। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা বলে ভিন্নকথা। এখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, পরিকল্পনা আর সময়ের সঠিক ব্যবহার।
আমি ব্যাংকে পূর্ণকালীন চাকরি করেছি। দিনের কাজ শেষে শরীর ক্লান্ত থাকত। তারপরও প্রতিদিন পড়ার টেবিলে বসতাম। আমি জানতাম, এই কষ্ট ক্ষণিকের, কিন্তু অর্জন দীর্ঘদিনের।
বিসিএস দীর্ঘ পথের পরীক্ষা। এখানে মেধার পাশাপাশি ধৈর্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। তখনই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছিল—পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না। ৪৭তম বিসিএসে প্রথম চেষ্টাতেই শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই বিশ্বাস যেন পূর্ণতা পায়।
বিসিএসের তিনটি ধাপ—প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা। প্রতিটি ধাপের জন্য আলাদা প্রস্তুতি প্রয়োজন। তবে একটি অভ্যাস শুরু থেকে ধরে রেখেছিলাম। সেটি হলো বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ। কোন বিষয় বেশি এসেছে, কোন টপিক বারবার ফিরে এসেছে—সেগুলো আগে বুঝে তারপর পড়তাম। এতে প্রস্তুতি অনেক গোছানো হয়েছে।

এক. সব বিষয় সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়তে যাবেন না। বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করুন। যেসব টপিক বারবার এসেছে, সেগুলোতেই বেশি সময় দিন।
দুই. ধারাবাহিকতার বিকল্প নেই। এক দিন ১২ ঘণ্টা পড়ে কয়েক দিন বিরতি দেওয়ার চেয়ে প্রতিদিন নিয়মিত কয়েক ঘণ্টা পড়া অনেক বেশি কার্যকর।
তিন. মৌলিক ভিত্তি শক্ত করুন। শুধু গাইড নয়, নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বইসহ মৌলিক বইগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
চার. ধৈর্য হারাবেন না। বিসিএস কোনো ছোট দৌড় নয়; এটি একটি ম্যারাথন। মাঝপথে ক্লান্তি আসবে, হতাশাও আসবে। অনেক সময় মনে হবে, অন্যরা অনেক দূর এগিয়ে গেছে, আর আপনি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন। এই অনুভূতি স্বাভাবিক। কিন্তু মনে রাখবেন, অন্ধকার যত গভীর হয়, ভোর তত কাছে আসে।
পরিশেষে একটি কথাই বলতে চাই। আপনি যত বড় দায়িত্বেই যান না কেন, দেশ ও মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা কখনো হারাবেন না। মনে রাখবেন, রাষ্ট্রের একজন কর্মচারী হিসেবে ক্ষমতার চেয়ে দায়িত্বই বড়। জবাবদিহি, সততা ও মানবিকতা নিয়েই একজন প্রকৃত সিভিল সার্ভেন্টের পথচলা।
আজগর আলী শামীম, ৪৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ১০ম গ্রেডভুক্ত ‘উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা/সমমান’ পদের লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে ৪৩০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
মেঘনা পেট্রোলিয়াম পিএলসিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। জ্বালানি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানটিতে ছয় ক্যাটাগরির মোট ১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে, চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
৬ ঘণ্টা আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ৫ ক্যাটাগরিতে ১৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে, চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। প্রার্থীকে বাহ্মণবাড়িয়া জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
৭ ঘণ্টা আগে
হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ২০তম গ্রেডের ৩টি ক্যাটাগরিতে মোট ১০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে। আবেদন করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
১২ ঘণ্টা আগে