Ajker Patrika

গাংনীতে ফসলের মাঠ থেকে ৬টি ট্রান্সফরমার চুরি, সেচসংকটে চাষিরা

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি 
গাংনীতে ফসলের মাঠ থেকে ৬টি ট্রান্সফরমার চুরি, সেচসংকটে চাষিরা
ভেতরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ নিয়ে ওপরের কাঠামো ফেলে রেখে যায় চোর চক্র। ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সেচপাম্পের ছয়টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার দিবাগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার চেংগাড়া এলাকার ধর্মচাকী মাঠে এ চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সেচপাম্পের মালিক ও স্থানীয়রা।

সোমবার সকালে মাঠে সেচ দিতে গিয়ে পাম্পমালিকেরা দেখতে পান ট্রান্সফরমারগুলো চুরি হয়ে গেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ট্রান্সফরমার চুরির কারণে ওই মাঠের জমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সময়মতো সেচ না পেলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

চাষি দবির আলী বলেন, ‘এই মাঠে বিভিন্ন ফসল আবাদ করা হয়। এখন সেচ বন্ধ হয়ে গেলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’

আরেক চাষি মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে গেলে চাষাবাদ কীভাবে চলবে। ভেতরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ নিয়ে যায়, শুধু কাঠামো ফেলে রেখে যায়। আমরা বড় বিপদের মধ্যে আছি।’

সেচপাম্পের মালিক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘রোববার রাতে কোনো একসময় ছয়টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এখন নতুন করে ট্রান্সফরমার কেনা আমাদের জন্য কঠিন। এ সময় জমিতে পানি দেওয়া জরুরি, না হলে চাষিরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি সহায়তা পেলে কিছুটা উপকার হতো। এখন আমরা আর্থিকভাবে চরম চাপের মধ্যে আছি।’

স্থানীয় মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ। প্রায়ই এ ধরনের চুরির ঘটনা শোনা যায়। চোর চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।’

এ বিষয়ে গাংনী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গত ছয় মাসে আমাদের এলাকায় ১৩টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। রোববার রাতে আরও ছয়টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা মূল্য পরিশোধ করলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’

গাংনী থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়র রহমান বলেন, ‘এখন মাঠে ফসল রয়েছে। ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় সেচসংকট তৈরি হবে, ফলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করছি।’

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্তমান মৌসুমে মাঠে ফসল থাকায় দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত