Ajker Patrika

মানিকগঞ্জে আখ কাটার ধুম, ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

আব্দুর রাজ্জাক (ঘিওর) মানিকগঞ্জ 
মানিকগঞ্জে আখ কাটার ধুম, ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
কেউ আখ কাটছেন, কেউ পাতা ও আঁশ পরিষ্কার করছেন। আজ সকালে সদর উপজেলার তরা এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

মানিকগঞ্জে শুরু হয়েছে আখ কাটার মৌসুম। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন চলছে পরিপক্ব আখ কাটার ধুম। খেতজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কেউ আখ কাটছেন, কেউ পাতা ও আঁশ পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ বাজারজাতের জন্য আঁটি বাঁধছেন। ভালো ফলন ও বাজারে চাহিদা থাকায় এবার লাভের আশা করছেন কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার সাত উপজেলায় ৫১০ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৫ হাজার ২৪৫ টন। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার জেলায় ৫২৪ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে।

সিংগাইর, সাটুরিয়া ও সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আখ চাষ হয়। এ ছাড়া ঘিওর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও দিন দিন আখের আবাদ বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার তরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষকেরা কাদা-পানি মাড়িয়ে খেত থেকে আখ কাটছেন। পরে আখের পাতা ও আঁশ পরিষ্কার করে আঁটি বেঁধে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তরা এলাকার কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে আখ চাষে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আখের পাশাপাশি মুলা, ধনেপাতা ও লালশাক চাষ করে বাড়তি আয় করেছি। ইতিমধ্যে খেত থেকেই প্রায় ৫০ হাজার টাকার আখ বিক্রি করেছি।’

সিংগাইরের বায়রা ইউনিয়নের গেরাদিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমি সাত বিঘা জমিতে উন্নত জাতের আখ চাষ করেছি। চারা রোপণ, পরিচর্যা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচসহ প্রতি বিঘায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে প্রতি বিঘা আখ ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’

সাভারের আশুলিয়া থেকে আসা পাইকার মো. সোহেল মিয়া বলেন, ‘এবার আমরা সরাসরি খেত থেকে আখ কিনছি। জাত ও মানভেদে প্রতি আখ ২০ থেকে ৪০ টাকা দরে কেনা হচ্ছে। মানিকগঞ্জের আখের মান ভালো হওয়ায় ঢাকার বাজারে এর চাহিদা রয়েছে।’

তবে কৃষকদের অভিযোগ, মাঠে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া একটি ভালো মানের আখ ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে দামের বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। তাই উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজাহান সিরাজ বলেন, ‘আখ একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল। একই জমিতে সাথি ফসল চাষের সুযোগ থাকায় কৃষকদের মধ্যে আখ চাষের আগ্রহ বাড়ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে মানিকগঞ্জের আখ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন উপকরণও দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে জেলায় আখ চাষের পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত