Ajker Patrika

বিয়ে করতে রাজি হচ্ছেন না প্রেমিক, অভিমানে নদীতে ঝাঁপ কলেজছাত্রীর

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি  
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ১৭: ৫৮
বিয়ে করতে রাজি হচ্ছেন না প্রেমিক, অভিমানে নদীতে ঝাঁপ কলেজছাত্রীর
প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার করায় অভিমানে সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ কলেজছাত্রীর। ছবি: আজকের পত্রিকা

মানিকগঞ্জের ঘিওরে প্রেমঘটিত টানাপোড়েনের জেরে সেতু থেকে অন্তত ১০০ ফুট নিচে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে এক কলেজপড়ুয়া তরুণী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

গতকাল সোমবার রাতে এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ঘিওর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুরে ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত পেঁচারকান্দা সেতুতে।

অভিযুক্ত প্রেমিক পার্শ্ববর্তী বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের সাইংজুরী গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ওই তরুণীকে (১৮) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তরুণীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সাইংজুরী গ্রামের এক যুবকের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়, কিন্তু অভিযুক্ত প্রেমিক বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তিনি তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার চরম ক্ষোভ ও অভিমানে একটি চিরকুট লিখে ধলেশ্বরী নদীর পেঁচারকান্দা সেতু থেকে ঝাঁপ দেন তরুণী।

তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন ধলেশ্বরী নদীতে উদ্ধার অভিযান চালায়। সৌভাগ্যবশত দ্রুত তাঁকে নদী থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে তিনি নিজেই সম্পর্কের কথা জানান।

তরুণীর দাবি, বিয়ের প্রলোভনে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে শারীরিক সম্পর্কও করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। বিয়ের কথা বললে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে চাওয়ায় মানসিক চাপ ও অভিমানে নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি।

ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর দূরসম্পর্কের ভাই। প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিকভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিয়ে করতে বলা হয়; কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে চান। মানসিক অশান্তি থেকে তাঁর মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এখন পুরো বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তাই আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রেমিকের বাড়িতে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি, ব্যবহৃত ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর পরিবার এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।

এ বিষয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, তরুণীর সেতু থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত