
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনার বড় অংশজুড়েই থাকে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের চিরায়ত তর্ক। আগে তর্ক-বিতর্ক সাধারণত সীমাবদ্ধ থাকত চায়ের কাপে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে এখন ট্রল, ব্যঙ্গ-রসিকতার ধরন বদলে গেছে। রিলস, ভিডিও, ফটোকার্ড, স্ট্যাটাসে চলে সব ‘আক্রমণ’।
সমর্থকদের মতো খেলোয়াড় কিংবা কোচরাও কখনো কখনো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কথার লড়াইয়ে মেতে ওঠেন। এই যেমন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি হাইতিকে ৩-০ গোলে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা দলের খেলার মান ও ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। আর্জেন্টিনার খেলা নিয়ে ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ বলেছেন, ‘তারা (আর্জেন্টিনা) হাই ইনটেনসিটির ফুটবল খেলে না।’ দারুণ ছন্দে থাকার পরও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা যে শিরোপা ধরে রাখতে সামর্থ্য রাখে, সেটা মানতে নারাজ আনচেলত্তি, ‘তারা খুব ভালোভাবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু এই টুর্নামেন্টের প্রথম ভাগে এমন কিছু দল সামনে এসেছে, যারা খুব আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে এবং তাদের রক্ষণভাগও দারুণ।’
আনচেলত্তি যেভাবে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সমালোচনা করেছেন, লিওনেল স্কালোনি সেটার মোক্ষম কোনো জবাব দেবেন বলে যাঁরা ভেবেছিলেন, বাস্তবে সেটা দেখা যায়নি। ইটের বদলে পাটকেল মারেননি, বরং সমালোচনার হুলকে ‘ফুল’ হিসেবে নিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ। ডালাসে অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে আন্তচেলত্তির মন্তব্য নিয়ে স্কালোনি বলেছেন, ‘এটিকে সমালোচনা নয়, প্রশংসা হিসেবেই নিয়েছি। আনচেলত্তি আমাদের সম্পর্কে কী বলতে চেয়েছেন, ভালোভাবেই বুঝেছি। তাঁর কথায় আমরা বরং অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমার কাছে ওটা সমালোচনার চেয়ে প্রশংসাই বেশি মনে হয়েছে।’
আনচেলত্তির মন্তব্যকে সমালোচনা হিসেবে দেখাটা কেন ভুল মনে করেন, সেটির ব্যাখ্যায় স্কালোনি বলেছেন, ‘অনেকে মনে করেন, তিনি আমাদের সমালোচনা করেছেন। তিনি স্প্যানিশ, ইতালিয়ান ও পর্তুগিজ মিলিয়ে কথা বলছিলেন, তাই হয়তো অনেকের কাছে বিষয়টি ভুলভাবে ধরা পড়েছে। তবে শতভাগ নিশ্চিত, তিনি আমাদের প্রশংসাই করেছেন।’
ব্রাজিল কোচের মন্তব্য যে রকমই দেখা হোক, যে ইনটেনসিটি বা খেলার তীব্রতার প্রসঙ্গ এসেছে, সেটি নিশ্চয় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এখন প্রেসিং ফুটবলের যে উৎকর্ষ আর প্রভাব, এই বিশ্বকাপে অনেক দলই দুরন্ত গতিতে ছুটছে হাই ইনটেনসিটি ফুটবল কৌশলে। তবে কি হাই ইনটেনসিটিই পার্থক্য গড়ে দেবে ২০২৬ বিশ্বকাপেও?
এই প্রশ্নে স্কালোনির ব্যাখ্যা হচ্ছে, ‘আগে ঠিক করতে হবে, আমরা ইনটেনসিটি বলতে কী বুঝি। এই বিশ্বকাপে বল না থাকলে প্রথম কাজ হলো প্রতিপক্ষকে সুযোগ না দেওয়া। প্রচণ্ড গরম আর খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তির কারণে খুব বেশি দলই এখন হাই প্রেস করছে না। বেশির ভাগ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে মাঝমাঠের লড়াইয়ে। কোথাও তিন ফরোয়ার্ড নিয়ে খেলে দল জিতছে, কোথাও পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে, আবার কোথাও চার ডিফেন্ডার দিয়েও সফল হচ্ছে। তাই এখনই বলা কঠিন, এই বিশ্বকাপের মূল প্রবণতা ঠিক কোন দিকে যাচ্ছে। তবে একটি বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই—শেষ পর্যন্ত বড় দলগুলোই শিরোপার লড়াইয়ে থাকবে।’
আবহাওয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়েই স্কালোনি কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে ফিফার নিয়ম নিয়ে। ম্যাচের প্রতিটি অর্ধে থাকা কুলিং (হাইড্রেশন) বিরতি নিয়ে। আর্জেন্টিনা কোচের দৃষ্টিতে হাইড্রেশন বিরতিতে বেশি সুযোগ পাচ্ছে তুলনামূলক দুর্বল দল, ‘প্রচণ্ড গরম আর বারবার খেলা থেমে যাওয়ায় তুলনামূলক দুর্বল দল কিছুটা সুবিধা পেয়ে যায়। এই বিরতিগুলো আসলে কোচদের আরও সময় দেওয়ার জন্যই রাখা হয়েছে। এতে ম্যাচের ছন্দ নষ্ট হয়। কখনো কখনো মনে হয় যেন দুই অর্ধ নয়, চারটি অর্ধে খেলা হচ্ছে।’
গ্রীষ্মের গরমে খেলা মানে বিরতিটা লাগবেই। এই বিরতির সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার পথ খুঁজছেন স্কালোনি, ‘প্রথম ২২ মিনিটে যা ঘটে, তার ওপর নির্ভর করে আমাদের পরিকল্পনাও বদলে যেতে পারে। সাধারণত বিরতিতে যে কাজগুলো করা হয়, এখন সেগুলো কুলিং ব্রেকেই করতে হচ্ছে। আক্রমণাত্মক দলগুলোর জন্যও এটি কৌশল সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে। তবে এখনো বিষয়টি আমাদের কাছে স্বাভাবিক লাগছে না। ভবিষ্যতে যদি এটি নিয়মিত থাকে, হয়তো একসময় সবাই অভ্যস্ত হয়ে যাবে।’
গতকাল যেখানে খেলেছে আর্জেন্টিনা, সেই ডালাসের দুপুরে থাকে প্রচণ্ড গরম। তবে ছাদ ঢাকা ডালাস স্টেডিয়ামে সেই গরম অনুভব করা যায় না খুব একটা। পুরো স্টেডিয়ামই যে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। যতই এসি থাক, তাতে তো আর হাইড্রেশন বিরতি বন্ধ থাকছে না। মনে ‘বিরক্তি’ চেপে স্কালোনিকে তাই হাইড্রেশন বিরতি ভালোভাবে কাজে লাগাতে হচ্ছে।

আর্জেন্টিনার আরও এক ম্যাচ। আবারও লাইমলাইট লিওনেল মেসির ওপর। ডালাসে গত রাতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলে তছনছ করে দিয়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যম—সব জায়গাতেই চলছে তাঁর বন্দনা। বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলা মেসিকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন জ্লাতান ইবরাহিম
৫ মিনিট আগে
লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড—গত রাত থেকে এ কী শুরু করেছেন তাঁরা! একজনের যেখানে শেষ আরেকজনের সেখানে শুরু। ২ সংখ্যাটিই তিন জনকে মিলিয়ে দিয়েছে এক বিন্দুতে। মেসি, এমবাপ্পের পর হালান্ডের পায়ের জাদুও দেখেছেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।
২ ঘণ্টা আগে
ফিলাডেলফিয়ায় বজ্রঝড়ে দুই ঘণ্টার মতো সময় খেলা বন্ধ থাকলেও থামানো যায়নি কিলিয়ানো এমবাপ্পেকে। করলেন জোড়া গোল। তাঁর জ্বলে ওঠার রাতে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইরাককে উড়িয়ে ফ্রান্স নিশ্চিত করল নকআউট পর্বের টিকিট।
২ ঘণ্টা আগে
প্রথমার্ধের শেষদিকে হঠাৎ আকাশ কালো করে মুষলধারে বৃষ্টি ও প্রবল বজ্রপাত শুরু হলে রেফারি বিরতির বাঁশি বাজান। ফিফার কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে শেষ বজ্রপাতের পর অন্তত ৩০ মিনিট খেলা শুরু করা যায় না। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঝড়
৫ ঘণ্টা আগে