Ajker Patrika

অবৈধভাবে ইতালিযাত্রা: লিবিয়ার বন্দিশালায় নির্যাতনে ডাসারের যুবকের মৃত্যু

মাদারীপুর প্রতিনিধি
অবৈধভাবে ইতালিযাত্রা: লিবিয়ার বন্দিশালায় নির্যাতনে ডাসারের যুবকের মৃত্যু
মো. জহিরুল আকন। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ার বন্দিশালায় (গেমঘর) অমানবিক নির্যাতনে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার দক্ষিণ ধূয়াসার গ্রামের মো. জহিরুল আকন (২৫) নামের এক যুবক মারা গেছেন।

গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই আশপাশের লোকজন ও আত্মীয়স্বজনেরা নিহত যুবকের বাড়িতে ভিড় করছেন। এ ঘটনায় দালালদের শাস্তি ও লাশ দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন নিহত যুবকের পরিবার।

নিহত জহিরুল আকন ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ ধূয়াসার গ্রামের শামসুল হক আকনের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ডাসার উপজেলার ধলুগ্রামের হানিফ মাতুব্বরের ছেলে জাকির মাতুব্বর ও এই গ্রামের তারেক দাস নামে দুজনকে দালাল অল্প টাকার বিনিময়ে লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে সাগরপথে ইতালি লোক পাঠান। এ কথা জেনে ওই দালালদের প্রলোভনে সাড়া দিয়ে জহিরুল আকন অবৈধ পথে ইতালি যেতে রাজি হন। তাই জহিরুল আকন প্রথমে ২৫ লাখ টাকা দেন ওই দালালদের কাছে। পরে জহিরুলকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে প্রায় পাঁচ মাস আগে লিবিয়া নিয়ে যান দালালেরা। তাঁকে লিবিয়া পৌঁছানোর পর নিয়ে যাওয়া হয় অন্ধকার এক বন্দিশালায়।

সেখানে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে ভিডিও কলে জহিরুলের পরিবারকে টাকা পাঠাতে বলতেন লিবিয়ার দালাল ও মাফিয়া চক্রের সদস্যরা। এই পর্যন্ত জহিরুলের পরিবারের কাছ থেকে দফায় দফায় ৪৫ লাখ টাকা নেন দালাল তারেক দাস ও জাকির মাতুব্বর। লাখ লাখ টাকা দেওয়ার পরও জহিরুলকে বাঁচাতে পারেনি পরিবার।

হঠাৎ দালালদের মাধ্যমে গতকাল রাতে খবর আসে জহিরুল মারা গেছেন। এদিকে মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন তাঁর স্ত্রী, দুই কন্যা, বাবা-মা, ভাই, আত্মীয়স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশী। তাঁদের দাবি, দালালেরা নির্যাতন করে জহিরুলকে মেরে ফেলেছেন।

নিহত জহিরুলের স্ত্রী সাথী আক্তার বলেন, ‘আমরা দালাল চক্রের হোতা জাকির মাতুব্বরের কাছে প্রথমে ২৫ লাখ টাকা দিয়েছি। পরে লিবিয়ায় নিয়ে গেমঘরে রেখে আমার স্বামীকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হতো। ভিডিও কলে সেগুলো আমাদের দেখাত। পরে আমরা জাকির ও তারেকের কাছে মোট ৪৫ লাখ টাকা দিয়েছি। এরপরও দালালেরা আমাদের কাছে আরও টাকা চায়। কিন্তু আমরা সেই টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন করে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের নামে মামলা করব। এই ঘটনার বিচার চাই আমরা। তা ছাড়া সরকারের কাছে দাবি জানাই, যাতে আমার স্বামীর লাশ দেশে আনা হয়।’

ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, জহিরুল আকন নিহতের ঘটনায় তাঁর পরিবার মামলা দিলে তা নেওয়া হবে। পরে এই ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস্) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঘটনাটির কথা আমরা জেনেছি। পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে সবার সচেতন হতে হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত