Ajker Patrika

লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমলেও নিম্নাঞ্চলে দুর্ভোগ অব্যাহত

লালমনিরহাট প্রতিনিধি 
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমলেও নিম্নাঞ্চলে দুর্ভোগ অব্যাহত
নৌকা ও ভেলা এখন তিস্তার নিম্নাঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। ছবি: আজকের পত্রিকা

লালমনিরহাটে বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে বেড়ে যাওয়া তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের অনেক পরিবার পানিবন্দী ছিল। রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানির নিচে থাকায় দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি।

আজ বেলা ১২টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক শূন্য মিটার। পানি ছিল বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের ১৫ সেন্টিমিটার নিচে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, "উজানের পানির প্রবাহ কমে আসায় তিস্তার পানিও ধীরে ধীরে কমছে। ধীরে ধীরে নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দিরাও মুক্তি পাচ্ছে। তবে সন্ধ্যার মধ্যে স্বাভাবিক হতে পারে বন্যাদুর্গত এলাকা। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।"

এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাতভর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। টানা বৃষ্টির কারণে চরাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

সোমবার সকাল ৬টায় পানি কিছুটা কমে আসে। পরে সকাল ৯টায় তা আরও কমে বিপৎসীমার নিচে নামে। এতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার আব্দুর রশিদ বলেন, "সারা আইত নিন্দ হয় নাই, ভাই। বিছানার নিচে পানি। ছাওয়া পোয়া নিয়ে বিছানায় বসে রাত কাটাইছি। দুপুর থেকে একটু কমতেছে পানি। হামার কষ্ট কায়ো দেখে না। সরকারি লোকেরা আসি সড়ক থাকি দেখি চলে যায়।"

একই এলাকার জোনাব আলী (৫৫) বলেন, "পানি বাড়লে গবাদিপশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গবাদিপশু নিয়ে উঁচু সড়কে রাত কাটাইছি। গরুগুলোকে খাওয়াতেও পারছি না, চারদিকে পানি আর পানি।"

তিস্তাপাড়ের লোকজন জানান, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় তিস্তা তীরবর্তী এলাকার অনেক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি উঠেছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। চরাঞ্চলের অনেক রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে ডুবে আছে। নৌকা ও ভেলা এখন চরাঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্যাদুর্গতদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। তিস্তাপাড়ে প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়েনি বলেও অভিযোগ করেন তারা। বিগত বন্যায় স্বাস্থ্যকর্মীরা অস্থায়ী ক্যাম্প করলেও চলতি বন্যায় তাদের দেখা যায়নি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এতে দুর্গত এলাকায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলার পাঁচটি উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। পানিতে তলিয়ে গেছে টিউবওয়েল ও টয়লেট। নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা পড়েছেন বেশি বিপাকে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। তালিকা পেলে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়নি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ২২০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিছু বিতরণের কাজ শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত