খোরশেদ আলম সাগর, লালমনিরহাট

তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে টানা ৪৮ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে তিস্তাতীরের ৫ জেলার লাখো মানুষ। ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে আজ সোমবার রংপুরের মহিপুরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কাল মঙ্গলবার সমাপনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
কর্মসূচি সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজক সংগঠন তিস্তা রক্ষা আন্দোলনের প্রধান বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আমাদের এই আন্দোলন কোনো দল বা মতের নয়; এটি গোটা রংপুর অঞ্চলের মানুষের গণদাবি। যার মধ্য দিয়ে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়সহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। আমরা চাই, তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে অবহেলিত এই অঞ্চলে গড়ে উঠুক স্যাটেলাইট ভিলেজ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, পর্যটন কেন্দ্রসহ কৃষি ও শিল্পবিপ্লব।’
জানা গেছে, কর্মসূচি সফল করতে নদীতীরের একাধিক স্থানে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। থাকবে তিস্তাপারের মানুষের সুখ-দুঃখের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, ভাওয়াইয়া গানের আসর, দিনভর ঘুড়ি উৎসবসহ গ্রামীণ নানান খেলাধুলা। স্থানীয় মানুষের নিজেদের চাল-ডাল সহায়তায় পরিবেশন করা হবে খিচুড়িসহ প্রয়োজনীয় খাবার। এভাবে টানা ৪৮ ঘণ্টা তিস্তাতীরেই অবস্থান করবে রংপুরের ৫টি জেলার কয়েক লাখ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে চলছে প্রচারাভিযান। ব্যাপক লোকসমাগমের প্রত্যাশা আয়োজক কমিটির।
ভারতের সিকিমে জন্ম নেওয়া তিস্তা নদী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে নীলফামারী জেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে।
এরপর লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী বন্দর হয়ে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিশেছে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশ অংশে রয়েছে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার।
উজানে ভারতের গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে দেশটি তিস্তার পানি একতরফা ব্যবহার করছে। এতে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে বর্ষা শেষ হতেই বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হয়ে জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। আবার বর্ষাকালে ভারত অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় নদীভাঙন ও বন্যার মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ অংশের রংপুর বিভাগ।
তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হচ্ছে উভয় দেশের মধ্যে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন সময় নানান কর্মসূচি পালন করেছে। বহু আন্দোলন-সংগ্রাম হলেও সুফল পায়নি তিস্তাপারের মানুষ।
এ কারণে তিস্তাপারের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে তিস্তা নদী খনন করে উভয় তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। যাতে নদীভাঙন, বন্যা আর খরা থেকে রক্ষা পায় এ জনপদ। তবেই চাষাবাদের আওতায় আসবে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। সেই দাবি পূরণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
তিস্তাপারের কৃষক জমির উদ্দিন বলেন, ‘নদীভাঙনে ১২-১৪ বার বসতভিটা সরিয়ে নিয়েছি। শুকনো মৌসুমে বালু জমিতে কঠোর পরিশ্রম করে, যা চাষাবাদ করে যা পাই, সেটুকু দিয়ে চলে পুরো বছর। কিন্তু বর্ষার বন্যায় তা বসতভিটা ভেসে বা ভেঙে যায় নদীতে। তাই চাই স্থায়ী বাঁধ; যাতে ফসল নষ্ট না হয় বা বসতভিটা ভেসে না যায়।’
তিস্তাপারের আদিতমারী সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু তাহের বলেন, তিস্তা নদী শাসন করতে পারলে উত্তরাঞ্চলে কৃষিবিপ্লব ঘটবে, শিল্পবিপ্লব ঘটানোও সম্ভব। চাষাবাদের আওতায় আসবে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। সব মিলিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পিছিয়ে পড়া তিস্তাপারের মানুষ স্বস্তি পাবে।

তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে টানা ৪৮ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে তিস্তাতীরের ৫ জেলার লাখো মানুষ। ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে আজ সোমবার রংপুরের মহিপুরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কাল মঙ্গলবার সমাপনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
কর্মসূচি সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজক সংগঠন তিস্তা রক্ষা আন্দোলনের প্রধান বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আমাদের এই আন্দোলন কোনো দল বা মতের নয়; এটি গোটা রংপুর অঞ্চলের মানুষের গণদাবি। যার মধ্য দিয়ে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়সহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। আমরা চাই, তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে অবহেলিত এই অঞ্চলে গড়ে উঠুক স্যাটেলাইট ভিলেজ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, পর্যটন কেন্দ্রসহ কৃষি ও শিল্পবিপ্লব।’
জানা গেছে, কর্মসূচি সফল করতে নদীতীরের একাধিক স্থানে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। থাকবে তিস্তাপারের মানুষের সুখ-দুঃখের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, ভাওয়াইয়া গানের আসর, দিনভর ঘুড়ি উৎসবসহ গ্রামীণ নানান খেলাধুলা। স্থানীয় মানুষের নিজেদের চাল-ডাল সহায়তায় পরিবেশন করা হবে খিচুড়িসহ প্রয়োজনীয় খাবার। এভাবে টানা ৪৮ ঘণ্টা তিস্তাতীরেই অবস্থান করবে রংপুরের ৫টি জেলার কয়েক লাখ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে চলছে প্রচারাভিযান। ব্যাপক লোকসমাগমের প্রত্যাশা আয়োজক কমিটির।
ভারতের সিকিমে জন্ম নেওয়া তিস্তা নদী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে নীলফামারী জেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে।
এরপর লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী বন্দর হয়ে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিশেছে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশ অংশে রয়েছে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার।
উজানে ভারতের গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে দেশটি তিস্তার পানি একতরফা ব্যবহার করছে। এতে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে বর্ষা শেষ হতেই বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হয়ে জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। আবার বর্ষাকালে ভারত অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় নদীভাঙন ও বন্যার মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ অংশের রংপুর বিভাগ।
তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হচ্ছে উভয় দেশের মধ্যে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন সময় নানান কর্মসূচি পালন করেছে। বহু আন্দোলন-সংগ্রাম হলেও সুফল পায়নি তিস্তাপারের মানুষ।
এ কারণে তিস্তাপারের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে তিস্তা নদী খনন করে উভয় তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। যাতে নদীভাঙন, বন্যা আর খরা থেকে রক্ষা পায় এ জনপদ। তবেই চাষাবাদের আওতায় আসবে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। সেই দাবি পূরণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
তিস্তাপারের কৃষক জমির উদ্দিন বলেন, ‘নদীভাঙনে ১২-১৪ বার বসতভিটা সরিয়ে নিয়েছি। শুকনো মৌসুমে বালু জমিতে কঠোর পরিশ্রম করে, যা চাষাবাদ করে যা পাই, সেটুকু দিয়ে চলে পুরো বছর। কিন্তু বর্ষার বন্যায় তা বসতভিটা ভেসে বা ভেঙে যায় নদীতে। তাই চাই স্থায়ী বাঁধ; যাতে ফসল নষ্ট না হয় বা বসতভিটা ভেসে না যায়।’
তিস্তাপারের আদিতমারী সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু তাহের বলেন, তিস্তা নদী শাসন করতে পারলে উত্তরাঞ্চলে কৃষিবিপ্লব ঘটবে, শিল্পবিপ্লব ঘটানোও সম্ভব। চাষাবাদের আওতায় আসবে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। সব মিলিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পিছিয়ে পড়া তিস্তাপারের মানুষ স্বস্তি পাবে।

রোববার সন্ধ্যায় মেহেদী গোবরা থেকে মোটরসাইকেলযোগে শহরের বাসায় ফেরার পথে চিত্রা নদীর এসএম সুলতান সেতু এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ভ্যানকে ধাক্কা দেয়।
২ ঘণ্টা আগে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-১২ আসনে (তেজগাঁও এলাকা) রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আসনে ‘তিন সাইফুলের’ উপস্থিতি ভোটের মাঠে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। তাঁরা হলেন—দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল
৭ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় সর্বোচ্চ খরচের পরিকল্পনা করেছেন বিএনপির আলী আসগর লবী। আর জেলায় সবচেয়ে কম বাজেট একই দলের আরেক প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের। হলফনামায় ছয়টি আসনের প্রার্থীদের অধিকাংশই নিজস্ব আয়ের পাশাপাশি স্বজনদের কাছ থেকে ধার ও অনুদান নিয়ে এই ব্যয় মেটানোর কথা জানিয়েছেন।
৭ ঘণ্টা আগে
পাশাপাশি দুটি জনগোষ্ঠীর বসবাস। দূরত্ব বলতে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার হবে। মাঝখানে বয়ে চলা ছোট একটি ছড়া, যা পৃথক করেছে চা-শ্রমিক ও খাসিয়া জনগোষ্ঠীর আবাসস্থলকে। কাছাকাছি এলাকায় বসবাস হলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ডবলছড়া খাসিয়াপুঞ্জি ও ডবলছড়া বা সুনছড়া চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনমানে ব্যাপক ফারাক।
৮ ঘণ্টা আগে