Ajker Patrika

লিবিয়ায় জিম্মি চার বাংলাদেশি, নির্যাতন করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

আজিনুর রহমান আজিম, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) 
আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ১১
লিবিয়ায় জিম্মি চার বাংলাদেশি, নির্যাতন করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহীর চার যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন এবং দেশে থাকা স্বজনদের কাছে দফায় দফায় মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার মো. সুজনকে চক্রটির অন্যতম হোতা হিসেবে অভিযুক্ত করছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা।

অভিযোগ রয়েছে, একসময় নিজেও লিবিয়ায় বন্দিদশার শিকার হওয়া সুজন দেশে ফিরে মানব পাচারকারী ও জিম্মিকারী চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করে বিদেশে পাঠানোর নামে তিনি একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রথমে তাঁদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। পরে ইতালিতে না পাঠিয়ে চারজনকে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে আটকে রাখা হয়। সেখান থেকে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং দেশে থাকা স্বজনদের কাছে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে আরও টাকা দাবি করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, কয়েক মাস ধরে খুলনার রূপসা থানার চর রূপসা গ্রামের রোকন হাওলাদারের ছেলে মুসফিকুর রহমান ইমন (২০), রামনগর গ্রামের ইসরাফিল মোল্লার ছেলে রাকিব হাসান (১৯), রাজশাহী সিটি করপোরেশনের চন্দ্রিমা থানার হাফিজুল খাঁ (৪৫) এবং ঢাকা জেলার সাভারের বাবুল আহমেদের ছেলে পলাশ হোসেন (২৮) লিবিয়ায় জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন।

থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদারীপুর সদর থানার দক্ষিণপাড়া গ্রামের হালিম চৌকিদারের ছেলে মো. জিসান প্রথমে চারজনের পরিবারকে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। এ কাজে হাতীবান্ধার সুজনসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতায় বিভিন্ন সময়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা নেওয়া হয়। তবে কাউকেই ইতালিতে পাঠানো হয়নি। বরং তাঁদের লিবিয়ায় নিয়ে জিম্মি করে রাখা হয় এবং মুক্তির নামে আরও কয়েক দফায় টাকা দাবি করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জিসান ও সুজন দুজনই একসময় লিবিয়ায় ছিলেন। সেই সূত্রে তাঁদের লিবিয়াভিত্তিক মানব পাচারকারী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। পরে সুজন হাতীবান্ধার উত্তর ধুবনী গ্রামের মনির উদ্দিনের ছেলে মফিজুল ইসলামকেও এ চক্রে যুক্ত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

লিবিয়ায় জিম্মি থাকা রাকিব হাসানের মা শামসুন্নাহার লাকী বলেন, ‘আমার ছেলেকে সুজনের মাধ্যমে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু এখন তাকে জিম্মি করে নির্যাতন করা হচ্ছে। মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরও আমার ছেলে এখনো ফেরেনি।’

হাফিজুল খাঁর স্ত্রী পিয়ারী বেগম বলেন, ‘জিসানের মাধ্যমে সুজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে সুজন আট লাখ টাকা নগদ ও পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক নিয়ে আমার স্বামীকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় পাঠায়। সেখানে নিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। পরে আরও সাড়ে আট লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেই টাকা দিতে না পারায় এখন আমার স্বামীর ওপর নির্যাতন চলছে।’

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, গত ছয় মাসে একাধিকবার টাকা দেওয়া হলেও জিম্মিদের উদ্ধারে কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সম্প্রতি স্বজনদের উদ্ধারের দাবি জানাতে সুজনের গ্রামের বাড়িতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। এতে রাকিব হাসানের মা শামসুন্নাহার লাকী, মুসফিকুর রহমান ইমনের মা কহিনুর বেগম, হাফিজুল খাঁর স্ত্রী পিয়ারী বেগম ও পলাশ হোসেনের শাশুড়ি শাহিনুর বেগম আহত হন। পরে তাঁরা হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন।

সুজনের এলাকার ইউপি সদস্য মোতালেব হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সুজনের বাড়িতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে তাঁর কাছে বিচার চান। তিনি তাঁদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, সুজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার চারটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।

অভিযুক্ত সুজন মোবাইল ফোনে বলেন, তাঁর ও মফিজুল ইসলামের মাধ্যমে চারজন লিবিয়ায় গেছেন। তবে অর্থ লেনদেন করেছেন মফিজুল। তিনি দাবি করেন, ওই চারজন লিবিয়ায় ভালো আছেন এবং তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে একাধিকবার চেষ্টা করেও মফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের মতে, কয়েক বছর আগে সুজন নিজেও লিবিয়ায় গিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন এবং পরে দেশে ফেরেন। এরপর তিনি একই ধরনের চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়েছেন কি না, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত

২০২৬ সালের ঈদুল আজহা কবে, যা জানা গেল

প্রাথমিকেও চালু হচ্ছে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস

কিশোরগঞ্জে যুবদল নেতার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

‘ওকে লাথি মেরে বের করে দিন’—নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুদ্ধে পাঠাতে বললেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত