Ajker Patrika

উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবাসন সংকট প্রকট

শিপুল ইসলাম, রংপুর 
উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবাসন সংকট প্রকট
রংপুর সরকারি কলেজের পরিত্যক্ত শহীদ মোসলেম উদ্দিন ছাত্রাবাসে ঝুঁকি নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী বাস করেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

চরম আবাসন সংকটে পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় সব উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় আবাসন সুবিধা ১০ শতাংশের নিচে। ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে একদিকে শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসন সুবিধা রয়েছে তিনটি হলে মাত্র ৮২৪ জনের। অর্থাৎ এখানে মোট শিক্ষার্থীর ১০ শতাংশও হলে থাকার সুযোগ পান না।

রংপুর নগরীর চকবাজার এলাকার একটি মেসে থাকেন বেরোবির শিক্ষার্থী মো. হাসান ও রাকিব ইসলাম। হাসান বলেন, ‘মেস ভাড়া, খাবার আর যাতায়াতে মাসে অনেক টাকা খরচ হয়। হল পেলে অন্তত খরচ কিছুটা কমত। কিন্তু হলে তো সিট নাই।’ রাকিব ইসলাম বলেন, ‘মেসে পড়াশোনার পরিবেশ সব সময় থাকে না।’

একই চিত্র রংপুরের শতবর্ষী কারমাইকেল কলেজেও। ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৮টি বিভাগে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এর বিপরীতে ৭টি হলে আবাসন সুবিধা রয়েছে মাত্র ১ হাজার ২৩২ জনের। তাঁর মধ্যে ছাত্রীদের জন্য মাত্র ৩০০ সিট। তাও সেগুলোয় নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। এখানে আবাসন সুবিধা মাত্র ৬ শতাংশ।

কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘আবাসনের ব্যাপারে সরকারি যেসব কর্তৃপক্ষ সংস্থা কাজ করে, তাদের আমরা বিভিন্ন সময় হল করার

জন্য তাগিদ দিই। বাস্তবে আমরা সেই বরাদ্দ পাই না।’

রংপুর সরকারি কলেজের একই অবস্থা ১৪টি বিভাগে ১১ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করলেও এখানে একটি ছাত্রীহলে মাত্র ১২০টি সিট রয়েছে। একটি ছাত্রাবাস থাকলেও সেটি পরিত্যক্ত। তবুও ৩০-৩৫ জন ছাত্র সেখানে ঝুঁকি নিয়ে থাকেন। এখানে দুই শতাংশের কম শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পান। বেগম রোকেয়া সরকারি কলেজে ৭ হাজার নারী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। তবে সেখানে দুটি হলে মাত্র ৪০০ সিট রয়েছে। তাঁর মধ্যে একটি ঝুঁকিপূর্ণ।

বেগম রোকেয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন সরকার বলেন, বারবার মন্ত্রণালয়ে হলের জন্য চিঠি দিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসন সুবিধা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর। আর সদ্য যাত্রা শুরু করা কুড়িগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এখনো নিজস্ব ক্যাম্পাস না পাওয়ায় ভাড়া ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টারপ্ল্যান জমা দিয়েছি। সেখানে ছেলে এবং মেয়েদের জন্য আরও বেশ কিছু হল বরাদ্দ আছে।’

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এনামুল্লাহ জানান, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট রয়েছে। তবে খুব শিগগিরই ১২তলা একটি ছেলেদের হল, ১২তলা আরেকটি মেয়েদের হল হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যে কারণে উড়োজাহাজে ওঠার আগে চীনা সবকিছু ফেলে দিতে হলো ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের

রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম চিনবেন কীভাবে

ফেসবুকে সমালোচনার পর প্রত্যাহার হচ্ছেন এসপিরা

দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জখম যুবকের আর্তনাদ, ভিডিও করলেও এগিয়ে আসেনি কেউ

স্কুলে মিড-ডে মিল: অসাধু ঠিকাদারে প্রশ্নের মুখে ভালো উদ্যোগ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত