Ajker Patrika

সামর্থ্যবান স্বামী-স্ত্রীর ওপর কি পৃথক কোরবানি ওয়াজিব

মুফতি হাসান আরিফ
আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ০৮: ০০
সামর্থ্যবান স্বামী-স্ত্রীর ওপর কি পৃথক কোরবানি ওয়াজিব

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন ও মুকিম (যিনি মুসাফির নন) মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব, যদি তিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।

১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত তোলা সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদ থাকে, তার কোরবানি করা আবশ্যক। বর্তমানে সোনা ও রুপার মূল্যের পার্থক্যের কারণে রুপার নিসাবকেই (৫২.৫ তোলা) মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়।

স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সামর্থ্যবান হলে করণীয়: পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘সুতরাং তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো ও কোরবানি করো।’ (সুরা কাউসার: ২)। এই নির্দেশ সামর্থ্যবান প্রত্যেকের জন্য আলাদাভাবে প্রযোজ্য। তাই স্বামী ও স্ত্রী যদি আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে উভয়ের ওপর পৃথকভাবে কোরবানি করা ওয়াজিব। স্বামীর কোরবানি স্ত্রীর জন্য যথেষ্ট হবে না এবং স্ত্রীর কোরবানি স্বামীর জন্য যথেষ্ট হবে না।

অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা না থাকলেও সোনা বা রুপার অলংকার থাকে। যদি ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত সোনা-রুপার সম্মিলিত মূল্য নিসাব পরিমাণ হয়, তবে ওই স্ত্রীর ওপর কোরবানি করা বাধ্যতামূলক।

সামর্থ্যবান স্বামী-স্ত্রীর কোরবানি আদায়ের পদ্ধতি: স্বামী ও স্ত্রী দুজনই সামর্থ্যবান হলে দুটি আলাদা ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা কোরবানি দিতে হবে। আর গরু বা উটের মতো বড় পশুতে সাতজন পর্যন্ত শরিক হওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী একটি গরুর দুটি আলাদা অংশে (শেয়ারে) শরিক হয়ে কোরবানি দিতে পারেন। এতে উভয়ের ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।

স্বামী কি স্ত্রীর কোরবানি দিতে পারেন ?: শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, কোরবানি মূলত যার সম্পদ তার ওপরই অর্পিত দায়িত্ব। তবে স্ত্রী যদি সামর্থ্যবান হন এবং স্বামী নিজের অর্থ দিয়ে স্ত্রীর পক্ষ থেকে কোরবানি আদায় করে দিতে চান, তবে স্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে তা জায়েজ হবে এবং স্ত্রীর কোরবানি আদায় হয়ে যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত