Ajker Patrika

লক্ষ্মীপুরে ৭ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা, বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ১৭
লক্ষ্মীপুরে ৭ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা, বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ
ওই ব্যক্তির ও তার সন্তানের নাগরিকত্ব বাতিলের ব্যবস্থা নিচ্ছে কুয়েত। ছবি: পিক্সাবে

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছেন বাদী রিনা আক্তার। শুনানি শেষে মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রিনা আক্তারের স্বামী আবদুর রহিম রনিকে আটকের পর মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তিনি। মামলাটির তদন্ত প্রথমে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে (এসপি) দেওয়া হয়। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ নারাজি দিলে পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও নারাজি দেন বাদী। এরপর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দায়িত্ব দেন। গত ২ জুলাই সিআইডি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধেও গত ১৭ আগস্ট নারাজি আবেদন করেন বাদীপক্ষ। রোববার দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত না করে তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ। রায়পুর থানা ও হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজের হার্ডডিস্ক জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি। এ ছাড়া বাদীপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি যথাযথভাবে আমলে না নিয়ে নিজেদের মতো করে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আইনজীবী আরও বলেন, তদন্তে এসব ত্রুটি থাকায় বাদীপক্ষ সিআইডির প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রায়পুর-চাঁদপুর সড়কের চরপাতা ইউনিয়নের বর্ডার বাজার এলাকা থেকে আবদুর রহিম রনিকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছে গরু বিক্রির ৯০ হাজার টাকা ছিল। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা ওই টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তাঁর স্ত্রী। পরে থানায় নিয়ে রনিকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, স্বামীর সন্ধান পেতে রিনা আক্তার বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ করেন। পরে রায়পুর থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) কাছে স্বামীর বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারলে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে ঘটনার পর রায়পুর থানা-পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ১৮ ডিসেম্বর ডাকাতির প্রস্তুতিকালে রনিসহ দুজনকে অস্ত্র, কার্তুজ, দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু হানিফ (১), মো. আবু হানিফ (২), মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সফিক মিয়া ও সাখাওয়াত হোসেন এবং কনস্টেবল আতিক উল্যা ও ইউসুফ ঢালি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত