Ajker Patrika

লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ: দৃশ্যমান ৭০ ভাগ, দুই উপজেলার স্বস্তি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ: দৃশ্যমান ৭০ ভাগ, দুই উপজেলার স্বস্তি
৩১ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধের কমলনগর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুই উপজেলার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। প্রকল্প এলাকায় ভাঙন রোধ হওয়ায় বসতবাড়ি ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে নদীপারের বাসিন্দাদের। জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলার প্রায় ৭ লাখ মানুষ এই বাঁধের সুফল ভোগ করবে। ইতিমধ্যে বাঁধের ৭০ ভাগ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হতে আরও বছরখানেক সময় লাগবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো জানায়, ২০২১ সালের ১ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ৩৩ দশমিক ২৬ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন হয়। এর ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ৯০ কোটি টাকা। ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি কমলনগর উপজেলার সাহেবের হাট ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে ৯৯টি প্যাকেজ করে ৪৩টি ভাগে বাঁধের ৩১ কিলোমিটারের কাজ শুরু হয়। শুরুর চার মাস পর একাধিকবার কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়িয়ে পুরোদমে বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। ইতিমধ্যে ৭০ ভাগ কাজ শেষ হওয়ায় দৃশ্যমান হয়েছে বাঁধ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫০ বছরে ভাঙনের শিকার হয়ে লক্ষ্মীপুরে রামগতি, কমলনগর ও সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট এলাকার ৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, হাজার হাজার বসতবাড়ী, ফসলি জমি, অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাট বাজার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

কমলনগর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নুরনবী ও মাহমুদ হোসেন জানান, চার যুগ ধরে ভাঙনের শিকার তাঁরা। তিনবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। এখন বাঁধ হওয়ায় নদীপারের অনেক বাসিন্দারা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।

মতিরহাট এলাকার বাসিন্দা লিটন ও খালেক হোসেন বলেন, তীর রক্ষা বাঁধ নিয়ে মানুষের অনেক স্বপ্ন রয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষে হলে আর পিছিয়ে থাকবে না এই অঞ্চলের মানুষ। এই তীর রক্ষা বাঁধকে পর্যটনে রূপ দেওয়া সম্ভব।

লক্ষ্মীপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদ-উজ-জামান বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান পাল্টে যাবে, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা। ইতিমধ্যে বাঁধের কাজ ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। পুরোপুরি শেষ হতে বছরখানেক সময় লাগবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত