
বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন থেকে হরিণ শিকারের মামলার ৮৬ আসামিকে খুঁজছে পুলিশ ও বন বিভাগ। জানা গেছে, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
২০২৩ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, সুন্দরবনে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি হরিণের আবাসস্থল রয়েছে। শিকারিরা হরিণ নিধনে গভীর অরণ্যকেই নিরাপদ হিসেবে বেছে নেয়। মাছ শিকার ও গোলপাতা আহরণ করা নৌকাতেই হরিণের মাংস পাচার করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ১০ মাসে হরিণ শিকারের অভিযোগে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন থানায় ৪১টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি ১০২ জন। এ সময়ের মধ্যে অভিযানে হরিণের মাংসসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছে ১৬ জন। মামলায় পলাতক ৮৬ আসামিকে খুঁজছে পুলিশ ও বন বিভাগ।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, সাজাপ্রাপ্ত ও পেশাদার শিকারিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুরের দিদারুল ইসলাম, আংটিহারার মিজানুর রহমান গাজী, দাকোপ উপজেলার বাণীশান্তার ওমর আলী, কালাবগীর শফিকুল বৈদ্য, ইয়াসিন গাজী ও বাগেরহাটের রামপালের ফরিদ হাওলাদার।
সূত্র জানায়, কুমিরের কামড়, বাঘের থাবা, শিকারির ফাঁদের ভয়—এই তিন বিপদে সুন্দরবনের হরিণ। নিরাপত্তা নেই জলে, স্থলে ও বনে। তা ছাড়া দুষ্প্রাপ্য এ প্রাণীটির মাংসের দাম গরু-ছাগলের চেয়ে কম। সুন্দরবনসংলগ্ন শ্যামনগর, কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, রামপাল ও মোংলায় গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০-৮০০, খাসির মাংস ৯০০-৯৫০ টাকা দাম হলেও হরিণের মাংসের কেজি মাত্র ৬০০ টাকা।
সূত্রটি আরও জানায়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একাংশ বনে শিকারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। তারা জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি ও কাঁকড়া আহরণকারী। মাছের ট্রলারে বরফ দিয়ে ঢেকে এবং নৌকায় করে হরিণের মাংস পাচার করেন তাঁরা। বনের অভয়ারণ্যে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় তারা শিকার বেশি করে থাকে। শিকারের ফাঁদ উপকরণ হিসেবে নাইলন সুতার ফাঁদ ব্যবহার করা হয়।
জানা গেছে, সুন্দরবনসংশ্লিষ্ট পাঁচ উপজেলায় হরিণশিকারিদের পদচারণা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে কয়রার আংটিহারা, জোড়শিং, ৪ নম্বর কয়রা, মহেশ্বরীপুর, পাইকগাছার গড়ইখালীতে শিকারিরা বংশপরম্পরায় পেশাদার। তাঁদের সঙ্গে পারদর্শী দিনমজুরেরাও দৈনিক এক হাজার টাকা পারিশ্রমিকের চুক্তিতে শিকার করে থাকেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময়কে তাঁরা শিকারের জন্য বেছে নেন। শিকার হলেই জোয়ার-ভাটা উপেক্ষা করে ছুটে আসেন লোকালয়ে। হরিণের মাংসের জন্য একশ্রেণির খদ্দেরও রয়েছে। কোস্ট গার্ড, বন বিভাগ ও পুলিশ প্রতি মাসে গড়ে ৩০ কেজি মাংস উদ্ধার করছে। বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের করা মামলার আসামিদের অনেকেই জামিন পেয়ে আর আদালতে হাজিরা না দিয়েই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
জানতে চাইলে সুন্দরবন (পশ্চিম) বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান দুর্লভ প্রাণী হরিণ সংরক্ষণে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘স্মার্ট প্যাট্রলিং টিম গঠন করা হয়েছে। অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় তাঁরা বনে অবস্থান করেন। হরিণ পাচার ও শিকার প্রতিরোধে বনসংলগ্ন এলাকায় উঠানবৈঠক হচ্ছে।’
বন বিভাগের নিযুক্ত আইন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ২০২২ সাল থেকে বাগেরহাট ও খুলনার ১৫০ বন মামলা বিচারাধীন। হাতেনাতে ধরা পড়া ৯০ শতাংশ আসামির সাজা হচ্ছে। পলাতক আসামিদের মধ্যে ৩০ শতাংশের সাজা হয়েছে। মামলার ধরনগুলো হচ্ছে হরিণ শিকার ও কীটনাশক দিয়ে মাছ ধরা।
উল্লেখ্য, বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সুন্দরবনের একটি ঝুপড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ৩২ কেজি হরিণের মাংস, দুটি মাথা, আটটি পা ও আড়াই হাজার মিটার লম্বা ফাঁদ। ঘটনাস্থল থেকে এক শিকারিকে আটক করা হয়। গত তিন দিনে উদ্ধার করা হয়েছে ৯ হাজার ৪১০ ফুট ফাঁদ।
সাজাপ্রাপ্ত এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার সম্পর্কে জানতে চাইলে সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘হরিণ নিধন, বিষ দিয়ে মাছ ধরা, পাস পারমিট না নিয়ে বনে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে মামলাগুলা থানায় এলে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আমরা আদালতে পাঠাই। তবে বেশির ভাগ মামলা আদালতেই দায়ের হয়ে থাকে। কিন্তু জামিন পাওয়ার পর অনেক
আসামি পলাতক থাকে।’ তিনি বলেন, ওয়ারেন্ট আসামি ধরতে আমরা বিভিন্ন থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করি।’

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। তবে গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ভোটারই গণভোটের বিষয়ে এখনো অন্ধকারে। ফলে এ নিয়ে তাঁরা রয়েছেন চরম বিভ্রান্তিতে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার কথা মুখে মুখে শুনলেও এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণাই নেই এসব ভোটারের।
১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ফল পাল্টে দিতে পারেন নারী ভোটাররা। বিভাগের ৩৬টি সংসদীয় আসনে ১ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ৭২২ জন ভোটারের মধ্যে ৭০ লাখ ৪৪ হাজার ১৭৫ জনই নারী। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারী ভোটার ৭ হাজার ৭৬২ জন বেশি।
১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র চার দিন। ভোট ঘিরে শেষ সময়ে উপকূলীয় জেলা বরগুনার দুটি আসনেই হাট-বাজার, চায়ের দোকানে জমে উঠেছে ভোটের হিসাব-নিকাশ, বিশ্লেষণ। প্রার্থীরাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে।
১ ঘণ্টা আগে
বিএনপির প্রতি ভালোবাসা আর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার প্রবল আকাঙ্ক্ষায় আবারও ‘ধানমানব’ সেজেছেন মো. খাদেমুল ইসলাম। গতকাল শনিবার দুপুরে দিনাজপুরের বিরামপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় খাদেমুল শরীরে ধান বেঁধে হাজির হন। সভায়অনেকেরই নজর কাড়েন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে