Ajker Patrika

খুলনায় গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রী হাসপাতাল ছাড়ার পর লাপাত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৮: ৫৩
খুলনায় গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রী হাসপাতাল ছাড়ার পর লাপাত্তা
ঘটনাস্থলে গতকাল পুলিশ সদস্যদের দেখা যায়। ফাইল ছবি

খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত স্কুলছাত্রী ইতি (১৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে লাপাত্তা রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে গতকাল শুক্রবার রাতেই হাসপাতাল ছাড়লেও এখন পর্যন্ত তিনি কোনো হাসপাতালে ভর্তি হননি। বাড়িতেও ফেরেননি। এদিকে আজ শনিবার পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে মূল ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় পায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইতি রূপসা বহুমুখী বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি খুলনার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ আশিকের সৎবোন। গত জুন মাসের শেষ দিকে সোহেল নামে এক যুবকের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে চট্টগ্রাম মহানগরের কর্ণফুলী থানা-পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা সদর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। গত ২ জুলাই তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। এর এক দিন পরই গুলির ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরের রূপসা বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা ইতিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুলিটি তাঁর বাঁ হাঁটুর চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার সময় বাড়িতে ইতির তিন বন্ধু ও এক ভাবি উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে একটি বেসরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলে ইতি হাসপাতাল ত্যাগ করেন। তবে শনিবার সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি সেখানে ভর্তি হননি। এরপর পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে কাউকে পায়নি। সকালে ও দুপুরে দুই দফা বাড়িতে গেলেও মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং ভেতর থেকেও কোনো সাড়া মেলেনি।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সুজিত আহমেদ বলেন, ‘রোগী যদি স্বেচ্ছায় অন্যত্র চিকিৎসা নিতে চান, সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার থাকে না। ইতির শারীরিক অবস্থাও আশঙ্কাজনক ছিল না।’

খুলনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর ইতির ভাবি ও তাঁর তিন বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘরের ভেতরে পাঁচজন অবস্থান করছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে ছয়জন এসে ইতিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার রাতে মামলা করার কথা রয়েছে। যদি তাঁরা মামলা না করেন, তাহলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত