Ajker Patrika

খাগড়াছড়িতে ডুবে গেছে ধানখেত ও ঘরবাড়ি, ৫ ঘণ্টা পর সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ স্বাভাবিক

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি 
খাগড়াছড়িতে ডুবে গেছে ধানখেত ও ঘরবাড়ি, ৫ ঘণ্টা পর সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ স্বাভাবিক
খাগড়াছড়িতে তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ডুবে গেছে সড়ক। ছবি: আজকের পত্রিকা

খাগড়াছড়িতে আকস্মিক ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকা ও দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। ডুবে গেছে অনেক ঘরবাড়ি ও ধানখেত। সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর দীঘিনালা-সাজেক ও দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে খাগড়াছড়ি শহরের নিচেরবাজার, মেহেদীবাগ, বটতলী, কালাডেবাপাড়া, মুসলিমপাড়া এবং দীঘিনালা উপজেলার মেরুং, কবাখালী, হামতলী ও বেয়োলখালী এলাকার নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

হঠাৎ অতি ভারী এ বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় আমনের খেত ডুবে গেছে ও ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশপাশের স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা-মেরুং, দীঘিনালা-সাজেক এবং দীঘিনালা-লংগদু উপজেলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাজেকগামী পর্যটকসহ অসংখ্য মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা বলেন, গতকাল রাতে মাত্র ৩ ঘণ্টায় উপজেলায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এত অল্প সময়ে এটা সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিল পারভেজ বলেন, বৃষ্টিতে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় দীঘিনালা-লংগদু-সাজেক সড়কে। উপজেলা প্রশাসন বন্যা মোকাবিলা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, গভীর রাতে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি শহর, শহরের আশপাশের এলাকা এবং দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সকাল থেকেই আমরা প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করছি। খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সরকারি তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত