Ajker Patrika

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল: গভীর নলকূপ চালু হয়নি ১৮ বছরেও

আজিজার রহমান, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট)
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল: গভীর নলকূপ চালু হয়নি ১৮ বছরেও
চালু না হওয়ায় পরিত্যক্ত নলকূপের ঘর। সম্প্রতি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার সুজাপুরে। ছবি: আজকের পত্রিকা

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের ১৮ বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি। সরকারি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ায় প্রায় শতবিঘা জমিতে ফসল ফলাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন স্থানীয় কৃষকেরা। এদিকে এই অচলাবস্থা নিরসনে সম্প্রতি গ্রামের ৫০ জন কৃষক স্বাক্ষরিত একটি আবেদন ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা বিএমডিএ (বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ফোপড়া সুজাপুর মৌজার কৃষকদের সুবিধার্থে একটি কমিটির মাধ্যমে মোশারফ হোসেনের জমিতে গভীর নলকূপটি স্থাপন করা হয়। বিএমডিএ নিজস্ব খরচে বিদ্যুৎ-সংযোগের লাইন ও ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য পাইপ সরবরাহসহ সব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় অন্য একটি গভীর নলকূপের জটিলতার অজুহাতে দীর্ঘ ১৮ বছরেও নলকূপটির পানি উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে স্থানীয় ফোপড়া গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, ‘পাশের একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন গভীর নলকূপের মালিক শফির উদ্দিন। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘ ১৮ বছর এটি চালু করতে দেননি। খরা মৌসুমে পানির অভাবে আমরা ফসল ফলাতে পারি না।’

বর্গাচাষি সিরাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একবিঘা জমি সেচ দিতে আমাদের ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা গুনতে হয়। নলকূপটি চালু হলে ১৬ শ থেকে ১৮ শ টাকার মধ্যে একবিঘা জমি চাষ করা যাবে।’

জানতে চাইলে বর্তমান চালু থাকা গভীর নলকূপের মালিক শফির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রভাবশালী নয়, আমাদের স্কিমের ভেতরে ওই গভীর নলকূপটি বসানো হয়েছে। এ নিয়ে মারামারি হওয়ায় একটি মামলা হয়েছিল, সেখানে তারা পরাজিত হয়েছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা বিএমডিএ সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাক আহম্মদ বলেন, ‘লিখিত আবেদন পেয়ে আমি এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং ওই এলাকার কৃষকদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। সেখানে সরকারের লাখ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগ্রহী হলে নলকূপটি আবার চালু করা সম্ভব। তা না হলে সরকারি সম্পদ রক্ষায় সরঞ্জামগুলো উত্তোলন করে নিয়ে আসা হবে।’

ইউএনও সানজিদা চৌধুরী বলেন, অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএমডিএ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নিজের মৃত্যু নিয়ে ট্রাম্পের ভবিষ্যদ্বাণী, হতবাক ঘনিষ্ঠরা

বাংলাদেশের সাংবাদিকদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করল আইসিসি

‘সাংবাদিকদের প্রত্যাখ্যান করে প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের কেউই নিরাপদ নয় ভারতে’

টাঙ্গাইলে হাসপাতালে নারীদের ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা, ইন্টার্ন চিকিৎসক আটক

মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় হবে সামরিক শিল্পাঞ্চল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত