
ইসরায়েলের প্রচণ্ড সামরিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক শাখাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সরকারের এই কঠোর অবস্থান কার্যকর করতে গিয়ে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে দেশটি। লেবাননের রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতের কথা বললেও গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় সেনাবাহিনী এই মুহূর্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির মুখোমুখি হতে রাজি নয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে লেবানন সরকারের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি এসেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সাফ জানিয়েছেন, যদি লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর আক্রমণ বন্ধে ব্যর্থ হয়, তবে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেবে। একই সুরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে লেবানন সরকার ‘আগুন নিয়ে খেলছে’।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন, তাঁর সরকার রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর অংশ হিসেবে তাঁর মন্ত্রিসভা হিজবুল্লাহর সামরিক শাখাকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি মহলের মতে, হিজবুল্লাহর একক কর্মকাণ্ড লেবাননকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। তবে যুদ্ধের এই উত্তাল সময়ে এবং শক্তিশালী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছেন লেবাননের সেনাপ্রধান জেনারেল রুডলফ হাইকাল। হিজবুল্লাহর প্রতি তাঁর নমনীয় অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কড়া সমালোচনা চললেও জেনারেল হাইকাল তাঁর সিদ্ধান্তে অটল। তাঁর মতে, লেবাননের সেনাবাহিনী বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত। এই মুহূর্তে যদি সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে, তবে সেনাবাহিনীর ভেতরেই ফাটল দেখা দিতে পারে এবং দেশটিতে আবারও ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেনারেল হাইকাল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘জাতীয় ঐক্য’ রক্ষা করা এই মুহূর্তে সেনাবাহিনীর প্রধান কাজ, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে দেশের ভেতরে নতুন ফ্রন্ট খোলা নয়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক জেইনা খোদর বৈরুত থেকে আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইসরায়েল মূলত লেবানন সরকারের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে, যাতে তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কিন্তু লেবাননের বাস্তবতা অত্যন্ত জটিল। একদিকে ইসরায়েলি হামলা, অন্যদিকে হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তি এবং সেনাবাহিনীর পিছুটান—সব মিলিয়ে লেবানন সরকার এখন শাঁখের করাতের ওপর দিয়ে চলছে।
হিজবুল্লাহর ওপর এই রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তাদের সামরিক শক্তি কতটা কমাতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে লেবাননের ভেতরে যে গভীর রাজনৈতিক ও সামরিক বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা দেশটির অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি শক্তিশালী কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে, বিমানে থাকা ছয়জন ক্রুর মধ্যে চারজনই এই ‘দুর্ঘটনা’য় প্রাণ হারিয়েছেন।
২২ মিনিট আগে
মালদ্বীপের দক্ষিণ আরিফ ধালু অঞ্চলের ধিগুরাহ দ্বীপে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজন প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মালদ্বীপের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ভোরের দিকে একটি আবাসন ব্লকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
১ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলি ও পশ্চিমা সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, টানা এক সপ্তাহের নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলার পরও ইরানের মিসাইল লঞ্চার বা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযানের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, আকাশপথে বিশেষ করে নজরদারি ব্যবস্থায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ছোট ও চলমান লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করা কতটা কঠিন।
২ ঘণ্টা আগে
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের বিস্তৃতি বাড়তে থাকায় এবং ভারতের তেল-গ্যাস আমদানির বড় অংশ বহনকারী গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হুমকির মুখে পড়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি বহনকারী জাহাজ নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পে
৩ ঘণ্টা আগে