Ajker Patrika

ভৈরবে ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকাসহ আটক দুই স্বর্ণকার, ২১ ঘণ্টা পর মুক্ত

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 
ভৈরবে ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকাসহ আটক দুই স্বর্ণকার, ২১ ঘণ্টা পর মুক্ত
১ কোটি ৮৫ হাজার টাকাসহ দুজনকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ আটক হওয়া দুই স্বর্ণকারকে প্রায় ২১ ঘণ্টা পর থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁদের কাছ থেকে জব্দ করা ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকাও ফেরত দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

আটক হওয়া দুজন হলেন ভৈরব শহরের গাছতলাঘাট এলাকার সপু দেবনাথ (৩০) ও ভৈরব বাজারের শীমল দেবনাথ (২৭)। সপু দেবনাথ ভৈরব বাজারের ‘কথা শিল্পালয়’ নামের একটি স্বর্ণের দোকানের মালিক।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভৈরব শহরের রেলওয়ে স্টেশন রোডের পৌর কবরস্থানের সামনে টহল পুলিশ চেকপোস্টে তাঁদের আটক করা হয়। সে সময় চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে নেমে রিকশাযোগে ভৈরব বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন তাঁরা। আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ রিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা একটি বস্তা ও একটি ব্যাগ থেকে ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

পরে ঘটনাটি ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ ও ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফয়জুল ইসলামকে জানানো হয়। তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাকা উদ্ধারের পর তাঁদের ছাড়াতে রাতেই থানায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির কয়েকজন নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যোগাযোগ করেন।

ভৈরব স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি স্বপন দেবনাথ বলেন, কয়েকজন ব্যবসায়ীর ঢাকায় সোনা বিক্রি করে সেই টাকা নিয়ে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে ভৈরবে ফেরেন সপু দেবনাথের কর্মচারী। স্টেশন থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে পুলিশ তাঁদের আটক করে। পরে সোনা বিক্রির কাগজপত্র জমা দিলে পুলিশ টাকা ও আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেয়।

১ কোটি ৮৫ হাজার টাকাসহ দুজনকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
১ কোটি ৮৫ হাজার টাকাসহ দুজনকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘টাকার বৈধ উৎসের প্রমাণ পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই করতেই কিছুটা সময় লেগেছে।’

ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফয়জুল ইসলাম বলেন, টাকার বৈধ উৎস যাচাই-বাছাই করতে সময় লেগেছে। ঢাকার তাঁতীবাজারের বীথি নামক সোনার দোকানে ৪৫ ভরি সোনা বিক্রির টাকা এগুলো। তিনি বলেন, ওই সময় টাকার সঙ্গে সোনা বিক্রির রসিদ ছিল না। বেলা ১১টায় রসিদ নিয়ে এলে তা যাচাই-বাছাই করার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে রাত ৯টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ও ভৈরব বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ীর জিম্মায় আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং জব্দ করা টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত