
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অপসারণের ঘটনায় গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল ভাস্কর্যস্থল পরিদর্শন করেছে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিদর্শন শেষে তারা ভাস্কর্যটি পূর্বের স্থানে পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও জাতীয় বীরদের সম্মান রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলটি পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় গত দুই বছরে হামিদুর রহমান চত্বরে কয়টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান আছে কি না এবং ভাস্কর্যটি কারা ভেঙেছে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে জানতে চান তাঁরা।
বিকেলে টার্মিনাল এলাকায় একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরে মুক্তিযুদ্ধের যত স্মারক ভাস্কর্য ছিল, স্মৃতিচিহ্ন ছিল, সেগুলোর ওপর ৭১ এর পরাজিত শক্তি আক্রমণ চালায়। কারণ তাঁরা ৭১ সালে তাদের যে পরাজয়ের গ্লানি, সেটা ভুলতে পারেনি। সেই জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মারক থাকলেই তাঁদের হৃদয় স্পন্দন শুরু হয়। যারা এই ন্যক্কারজনক কাজ করেছে, তাঁদের প্রতি তীব্র ঘৃণা, নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই। এখানকার প্রশাসন যে নির্লজ্জের মতো নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করেছে, কেউ এটার দায় দায়িত্ব নিতে চায় না, তারও আমরা নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই।’
বজলুর রশীদ ফিরোজ আরও বলেন, “আমরা দাবি করি, মূল নকশা অনুযায়ী হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চত্বর স্মারক অক্ষুণ্ণ রেখে এখানেই এই ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণ করা হোক। একই সঙ্গে সারা দেশে যে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্যগুলো ভাঙা হয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে, সেগুলো পুনর্নির্মাণ করার জন্য বর্তমান সরকারের কাছে আমরা জোর দাবি জানাই।”
ডাকসুর সাবেক জিএস ও বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে ঝিনাইদহে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ এখানে এসেছি। আমরা খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছি, যেভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যটি ভাঙা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একদল মুখোশধারী নব্যফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী যেভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ধ্বংস করছিল, তারই একটি অংশ হিসেবে আমরা মনে করি ঝিনাইদহে এই চক্রান্তকারীরা এটি করেছে।’
ডা. মুশতাক হোসেন আরও বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচিত সরকার, যাদের জনগণের হয়ে কাজ করার কথা, তাঁরা পরোক্ষভাবে এই ভাঙচুরের সমর্থনে নানা রকম যুক্তি দিয়ে এখান থেকে স্মারক ভাস্কর্যটি অপসারণ করার ন্যক্কারজনক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে আমরা আশান্বিত হয়েছি যে, ঝিনাইদহের তরুণ সমাজ ও জনগণ এটি রুখে দিয়েছে এবং প্রশাসন বাধ্য হয়েছে এটি ভাঙার কার্যক্রম বন্ধ করতে।’
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘আমি মনে করি, তাঁরা এখানে যে কথাগুলো তুলে এনেছে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও ভালো করার জন্য। সেই ট্রাফিক ব্যবস্থা এই ভাস্কর্য রেখেই করা যায়। জয়দেবপুরেও একটি ভাস্কর্য আছে। সেখানে ট্রাফিকের চাপ এখানকার থেকেও অনেক বেশি। সেখানে সমস্যা না হলে এখানে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাই আমরা দাবি করি, সবার সঙ্গে কথা বলে এই ভাস্কর্যটি একই স্থানে পুনর্নির্মাণ করা হোক। ট্রাফিক ব্যবস্থার অজুহাত দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্যকে অপমান করা আমরা সমর্থন করব না।’
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরের ভাস্কর্য নিয়ে “কে ভাঙছে জানে না কেউ” শিরোনামে ১৪ জুলাই আজকের পত্রিকার অনলাইনে এবং ১৫ জুলাই প্রিন্ট সংস্করণে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর জেলা প্রশাসক ভাস্কর্য অপসারণের কাজ স্থগিত করেন।

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল গণি করিম ওরফে নাসিমকে (৫৫) গুলি করে হত্যার এক দিন পর গত সোমবার রূপসায় আক্তার ঢালীকে (৫৮) গুলি করে হত্যা করা হয়। পরপর পাশাপাশি দুই উপজেলায় দুই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
৭ মিনিট আগে
বিস্তৃত সবুজ আমন ধানের খেত। মৃদু বাতাসে দোল খাচ্ছে ধানের পাতা। এ দৃশ্যে অনেকের চোখ জুড়ালেও পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কৃষক দুলাল ইসলামের মন ভারাক্রান্ত। কারণ পোকার আক্রমণে তাঁর খেতের অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ তাঁর ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা কখনো খোঁজ নেননি—অভিযোগ দুলালের।
১২ মিনিট আগে
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অসম চুক্তি এবং পানি আগ্রাসন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন বর্তমানে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এরপর শিবির সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্মমভাবে তাঁকে পেটানো হয়।
৩৩ মিনিট আগে
লালমনিরহাটে স্ত্রী মিতু আক্তারকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী।
৩ ঘণ্টা আগে