Ajker Patrika

১৪ শিক্ষকের ১৬ শিক্ষার্থী, এসএসসিতে তিনজনের সবাই অকৃতকার্য

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
১৪ শিক্ষকের ১৬ শিক্ষার্থী, এসএসসিতে তিনজনের সবাই অকৃতকার্য
মনিরামপুরের চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

যশোরের মনিরামপুরের চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ১৪ জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারীর বিপরীতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ১৬ জন। এর মধ্যে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল তিনজন। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, তিনজনই অকৃতকার্য হয়েছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নাসিমা খাতুন ইংরেজি, ইতিহাস, কৃষিশিক্ষা ও সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। হুমায়রা খাতুন বিজ্ঞানে এবং আবু হামজালা গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে।

ফল প্রকাশের পর সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক সুজিত বালা তাঁর কক্ষে বসে আছেন। তাঁর কক্ষে তিনজন কর্মচারীকেও মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। পাশের চারটি কক্ষে ১৬ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করছিল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দশম শ্রেণিতে একজন, অষ্টম শ্রেণিতে চারজন, সপ্তম শ্রেণিতে একজন ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নবম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। তবে নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী ‘মাছ ধরার ছুটি’ নিয়ে চলে গেছে বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষকের কক্ষে টানানো একটি বোর্ডে বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের নামের তালিকা দেখা যায়। সেখানে প্রধান শিক্ষকসহ ১৪ জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারীর নাম রয়েছে। প্রধান শিক্ষক জানান, ১৪ জন শিক্ষকের মধ্যে একজন বেতন পান না।

এসএসসিতে তিন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত বালা বলেন, ‘এবার আমার বিদ্যালয় থেকে তিনজন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। তাদের মধ্যে আবু হামজালা নিয়মিত এবং নাসিমা ও হুমায়রা অনিয়মিত শিক্ষার্থী। তাদের কেউ পাস করতে পারেনি।’

শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের বালিকা বিদ্যালয় হলেও ছাত্র পড়ানোর অনুমতি রয়েছে। আমরা ১৪ জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী কর্মরত আছি। এখানে শিক্ষক-কর্মচারীর অভাব নেই। আমাদের প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বছরের বেশির ভাগ সময় স্কুল মাঠে পানি জমে থাকে। অনেক সময় পানি শ্রেণিকক্ষেও ঢুকে পড়ে। বিদ্যালয়ে আসতে রাস্তায় কাদা-পানি মাড়িয়ে আসতে হয়। এ পরিস্থিতিতে অভিভাবকেরা সন্তানদের এখানে পাঠাতে চান না। বর্ষা মৌসুমে অনেক শিক্ষার্থী অন্য স্কুলে চলে যায়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষকেরা তাদের ফেরানোর চেষ্টা করেও আর ফেরাতে পারেন না।’

সরেজমিন দেখা যায়, অনেকটা লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন ফাঁকা মাঠের মধ্যে বিদ্যালয়টির অবস্থান। চারপাশের মাঠে পানি জমে আছে। বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। মাঠে হাঁটুপানি জমে আছে। পানি ঢুকে পড়েছে বিদ্যালয়ের শৌচাগারেও।

বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাশাপাশি দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও সেখানে যাওয়ার রাস্তার অবস্থা নাজুক। ভাঙাচোরা ইটের রাস্তা দিয়ে কাদা ও হাঁটুপানি মাড়িয়ে বিদ্যালয় দুটিতে যেতে হয়।

বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সুজিত বালা বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠ মাটি ফেলে উপযোগী করার জন্য প্রতিবছর উপজেলা প্রশাসনের কাছে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করি। তারা দেবে বলে, কিন্তু পরে আর দেয় না। একপর্যায়ে কোথায় যেন আমাদের আবেদন হারিয়ে যায়।’

মনিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুজাফফার হোসেন বলেন, ‘সোমবার প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের ফলাফলে দেখা গেছে, মনিরামপুরে পাঁচটি মাদ্রাসা ও দুটি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত নয়। বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত