Ajker Patrika

যশোরে দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থীসহ পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল

­যশোর প্রতিনিধি
যশোরে দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থীসহ পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরে আরও দুটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয়েছে। এতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীসহ পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এই সিদ্ধান্ত দেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান।

রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যশোর-৩ (সদর) ও ৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। সদরে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে বাতিল হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের। তিনি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ঋণখেলাপি।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর যশোর-৩ আসনে এখন বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাদের, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় পার্টির খবির গাজী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাশেদ খান ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নিজাম উদ্দিন অমিত।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১০ জন। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টি এস আইয়ূব, বিএনপি থেকে অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ এইচ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টি এস আইয়ূব ঢাকা ব্যাংকে ঋণখেলাপি রয়েছেন। টি এস আইয়ূবের প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে সম্প্রতি যশোরের রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছিলেন ব্যাংকটির ধানমন্ডি মডেল ব্র্যাঞ্চের কর্মকর্তারা। তাঁর ছেলে ফারহান সাজিদও নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের নাম ও সই জমা দিয়েছিলেন স্বতন্ত্র এই প্রার্থী। তবে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান ভোটারের যে তালিকা দিয়েছেন, সেখানে অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ভোটারের তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে—১০ জনের মধ্যে অধিকাংশ জনের বিষয়ে অসত্য তথ্য দেওয়া হয়েছে। আরেক প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু। তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী না হলেও মনোনয়ন ফরমে দেখিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। তবে মনোনয়ন দাখিলের সময় দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিতে পারেননি। ফলে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী জহুরুল হকের মনোনয়ন ফরম অসম্পূর্ণ থাকায় তাঁর মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। ফলে এই আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকছেন বিএনপির বিকল্প মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক গোলাম রসুল, স্বতন্ত্র এম নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) সুকৃতি কুমার মণ্ডল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন, খেলাফত মজলিসের আশেক এলাহী।

যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, আজ দুটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এ দিন যশোর-৩ ও ৪ আসনে যাচাই-বাছাইয়ে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুটি আসনে যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে সাত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন। অন্য দুটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে আগামীকাল শনিবার।

যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ছয়টি সংসদীয় আসনে ৪৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০ জন, জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন, স্বতন্ত্র ১০ জন, ইসলামী আন্দোলনের ছয়জন, জাতীয় পার্টির ছয়জন, বিএনএফ, বাসদ, জাগপা, সিপিবি, খেলাফত মজলিস ও মাইনরিটি জনতা পার্টি থেকে একজন করে, এবি পার্টির দুজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর আগে ছয়টি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭১ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল।

মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে পরদিন ২১ জানুয়ারি। ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা; চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত