নলকূপ থেকে পানি আনতে বাধা, সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে সরকারি নলকূপ (টিউবওয়েল) থেকে পানি নিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আজ রোববার বেলা সোয়া ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের মধ্যপাড়ায় প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষ চলে।
জানা গেছে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক দুই সদস্য বক্কা ও আলাউদ্দিনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনটি কাঁদানে গ্যাসের শেল (টিয়ার শেল) ছোড়ে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন এনামুল (৩০), বাহার (২৮), মেহেদী (২১), কাওসার (২৮), ফয়সাল (৩১), জাহিদুল (২২), ভুট্টু মিয়া (৪০), আফদাল (২৬), তকদির (৩৮), জিয়াউর (৩৫), রাতুল (১৬), শামিম (২১), জফর উদ্দিন (৪২), শাওন (১৯) ও শামীম (৩৯)। তাঁদের মধ্যে এনামুল, কাওসার ও শামীমের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে। ফারজানা বেগম নামের এক নারী মধ্যপাড়ায় সরকারি নলকূপ থেকে পানি আনতে যান। তিনি বক্কা মেম্বারের পক্ষের লোক। এ সময় আলাউদ্দিন মেম্বারের পক্ষের ওয়াসিম মিয়া তাঁকে বাধা দেন। তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ফারজানার শিশুকে থাপ্পড় মারেন ওয়াসিম। এ নিয়ে আজ সকালে দুই পক্ষের মধ্যে আবার বাগ্বিতণ্ডা হয়; যা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউর রহমানসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম মাঈদুল হাছান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।









