Ajker Patrika

শহরে থাকেন শিক্ষকেরা, চরে অনিয়মিত পাঠদান

  • বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিক্ষকেরা ঠিকমতো না আসায় শিক্ষার্থীরা স্কুলমুখী হতে চায় না।
  • শিক্ষকদের ভাষ্য, নদী পার হয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে পাঠদানের মানসিকতা থাকে না।
আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা
শহরে থাকেন শিক্ষকেরা, চরে অনিয়মিত পাঠদান
ছবি: আজকের পত্রিকা

ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত গাইবান্ধা আদতে একটি চরাঞ্চলবেষ্টিত এলাকা। ছোট-বড় মিলে এ জেলায় চর রয়েছে ১৬৫টি। এসব চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে সরকারিভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু যাতায়াতে ভোগান্তি বলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষকেরা চরের বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য যেতে চান না। চরে না থেকে তাঁরা থাকেন জেলা শহরে। অনেক শিক্ষক আবার বিদ্যালয়ে না গিয়ে বদল (প্রক্সি) শিক্ষক দিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এভাবে পাঠদানে অনিয়মিত হলেও প্রতি মাসে সরকারি বেতনের টাকা কিন্তু ঠিকই নিয়মিত উত্তোলন করছেন।

চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিক্ষকেরা ঠিকমতো আসেন না। এ জন্য শিক্ষার্থীরাও আর স্কুলমুখী হতে চায় না। তবে শিক্ষকদের বক্তব্য, শুষ্ক মৌসুমে নদী পার হয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটা আর বর্ষা মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর পর মানসিক বিপর্যয় ঘটে।

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার চরাঞ্চলবেষ্টিত চারটি উপজেলায় মোট ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ৪৭২ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। আর শিক্ষক শূন্য রয়েছে ২২৪টি পদ। প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৯১৫।

চর এলাকার ফুলছড়ি উপজেলার এড়েন্ডাবাড়ী ধলীপাটাধোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সম্প্রতি বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যালয়টিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। প্রধান শিক্ষক লডলিস সুলতানা বলেন, ‘আমি একজন নারী হয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী আনা কি সম্ভব? তা ছাড়া গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে যাতায়াত করতে কী পরিমাণ সময় লাগে, আপনারা সেটা জানেন? সবাই আমরা কষ্ট করে নদীর বালু-পানি পার হয়ে আসি। ’

ধলীপাটাধোয়া চরের গৃহিণী শাহিনুর বলেন, ‘শিক্ষকেরা না আসলা পোলাপানরা স্কুলে যাব? শিক্ষকরা মাসোত দশ দিন, পনের দিন পরপর আসে। এতে ছাত্রছাত্রী থাকব? এ জন্য বেগটি ছোলপলকে শহরোত পড়ার জন্য পাঠাইছি।’

সদর উপজেলার চিতুলিয়া চর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, রহিম নামের এক যুবক ক্লাস নিচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে শুধু একজন প্রধান শিক্ষক আছেন। যাতায়াতের অসুবিধার কারণে এখানে শিক্ষকদের পোস্টিং দিলে কেউ যোগদান করেন না। আর কেউ যোগদান করলেও দুই মাসের মধ্যে অন্য বিদ্যালয়ে চলে যান। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি উপজেলায় দাপ্তরিক কাজে গেলে একটি ছেলেকে রেখে যেতে হয়। কাউকে না রেখে গেলে স্কুলটি একেবারে বন্ধ থাকবে।’

ফুলছড়ি উপজেলার এটিও আবু সুফিয়ান বলেন, ‘চরে যাতায়াত সমস্যার কারণে স্কুলগুলো ভিজিট করা সম্ভব হয় না। তারপরও যে যে স্কুলগুলোতে সমস্যা, সেগুলো দেখার চেষ্টা করব।’

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাস বলেন, ‘চরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকেরা যেতে চান না। যাঁরা চরে পোস্টিং নেন, তাঁরা যাতায়াতের সমস্যাসহ নানান অজুহাত দেখান।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত