Ajker Patrika

পুলিশের এসআই হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ১৪ বছর পর গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি
র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার লিয়াকত শেখ লিয়া। ছবি: আজকের পত্রিকা
র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার লিয়াকত শেখ লিয়া। ছবি: আজকের পত্রিকা

পুলিশের এক কর্মকর্তাকে (উপপরিদর্শক) হত্যার ১৪ বছর পর লিয়াকত শেখ লিয়া (৪২) নামের একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা জেলার ধামরাইয়ের চরডাউটিয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। আজ সন্ধ্যায় ক্যাম্পের অধিনায়ক মো. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার লিয়াকত রাজবাড়ী জেলা সদরের নিমতলা এলাকার রহমত শেখের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধামরাইয়ের চরডাউটিয়া এলাকায় রাজু আহমেদ ছদ্মনামে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট ঝিনাদহের ডাকবাংলো পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত এসআই মিরাজুল ইসলামকে হত্যার অভিযোগে লিয়াকত শেখের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় চলতি বছরের ৭ জুলাই ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের প্রথম আদালতের বিচারক লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় আরও চার আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। এ ছাড়া লিয়াকতের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতি মামলাসহ ৬টি মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট সকালে ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি কলেজের পূর্ব পাশের একটি পানিভর্তি ডোবা থেকে পুলিশ কর্মকর্তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সন্ত্রাসীরা তাঁর কাছে থাকা অস্ত্র, গুলি, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য সরকারি মালামাল ছিনতাইয়ের জন্য তাঁকে হত্যা করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করে। পরবর্তীকালে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলে তাঁদের স্বীকারোক্তিতে মূল হোতা হিসেবে লিয়াকত শেখের নাম উঠে আসে।

মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

পাবনায় মদ পানে ২ যুবকের মৃত্যু

পাবনা প্রতিনিধি
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

পাবনায় মদ পানে সুমন সরকার (৩৫) ও মামুন হোসেন (৩২) নামের দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত যুবকেরা হলেন পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার সঞ্চিত সরকারের ছেলে সুমন সরকার এবং রাধানগর মক্তব এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে মামুন হোসেন (৩২)। তাঁরা বাদ্যযন্ত্রশিল্পী হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে তাঁরা উভয়ে একটি অনুষ্ঠান শেষে মদ পান করেন। এর পর থেকে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল রাতে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁদের। তবে তাঁদের পরিবার থেকে মৃত্যুর বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে বা কথা বলতে রাজি হয়নি। ঘটনার পর থানায় অভিযোগও করেননি পরিবারের সদস্যরা।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স সুখি খাতুন জানান, মৃত্যুর আগে তাঁদের একজনকে রাত ১২টা এবং অপরজনকে রাত ৩টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। একজন হাসপাতালে মারা গেলে তাঁকে তাঁর স্বজনেরা নিয়ে চলে যান। আরেকজন রাজশাহী নেওয়ার পথে মারা গেছেন।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন বলেন, হাসপাতালের নথিপত্র অনুযায়ী তাঁদের মৃত্যুর কারণ মদপান উল্লেখ করা হয়েছে। কোথা থেকে, কীভাবে, কী মদ পান করে তাঁরা মারা গেলেন, এ বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

ওসি আরও জানান, ‌একজনের মরদেহ সৎকার করেছেন পরিবারের সদস্যরা। অপরজনের মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এখনো মৃত্যুর বিষয়ে কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

পদ্মার এই কাতল মাছটির দাম ১ লাখ ৮ হাজার টাকা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
১ লাখ ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া কাতল। ছবি: আজকের পত্রিকা
১ লাখ ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া কাতল। ছবি: আজকের পত্রিকা

পদ্মায় জেলের জালে আটকা পড়া এক কাতল মাছ ১ লাখ ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। যার ওজন ছিল ৩০ কেজি। আজ শুক্রবার ভোরে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা এলাকায় পদ্মা নদীতে জেলে মন্টু হলদারের জালে মাছটি ধরা পড়ে বলে জানান রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার মাছ ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ।

শাহজাহান শেখ বলেন, ‘জেলে মন্টু হলদারের বাড়ি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলায়। ভোরে তিনি তাঁর দল নিয়ে মানিকগঞ্জ জেলার দাউদকান্দি এলাকায় পদ্মা নদীতে জাল ফেলেন। সেখানে তাঁর জালে বিশাল একটি কাতল মাছ আটকা পড়ে। পরে তিনি আমার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে মাছটি দৌলতদিয়ায় নিয়ে আসেন। আড়তে মাছটি ওজন দিয়ে দেখা যায় ৩০ কেজি। সে সময় মাছটি ৩ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় কিনে নিই।’

সম্রাট শাহজাহান শেখ বলেন, ‘মাছটি কেনার পর বিক্রির জন্য মোবাইল ফোনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ করি। পরে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার এক সৌদিপ্রবাসীর কাছে ৩ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ১ লাখ ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

শাহজালালে বিপুল পরিমাণ স্পাই ডিভাইস জব্দ, আটক ২

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা ­­
ডিভাইস পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার শাহারুন আলী ও মো. ইকবাল হোসেন জীবন। ছবি: আজকের পত্রিকা
ডিভাইস পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার শাহারুন আলী ও মো. ইকবাল হোসেন জীবন। ছবি: আজকের পত্রিকা

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গন এলাকা থেকে ইলেকট্রনিক স্পাই ডিভাইস ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করেছে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এসব ডিভাইস সাধারণত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহার করা হয়।

এ ঘটনায় শাহারুন আলী (৩৮) ও মো. ইকবাল হোসেন জীবন (৩৫) নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে শাহরুন ও ইকবালকে প্রথমে আটক করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে তাঁদের কাছে থেকে ৭৬টি ডিজিটাল ইলেকট্রনিক স্পাই ডিভাইস, ৫০টি ইয়ারপিস, ৩টি ল্যাপটপ এবং ৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শাহারুন আলী সাধারণ যাত্রীবেশে চীন থেকে এই ডিভাইসগুলো এনেছেন। বিমানবন্দরে আগে থেকে অপেক্ষায় ছিলেন চক্রের আরেক সদস্য মো. ইকবাল হোসেন জীবন। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শাহরুন। এ সময় তাঁদের আটক করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই স্পাই ডিভাইসগুলো বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হয়। এতে থাকে ক্রেডিট কার্ড সদৃশ ডিভাইস, প্রায় অদৃশ্য ইয়ারপিস এবং স্বচ্ছ এক্সট্রাকশন থ্রেড। মূল ডিভাইসটি দেখতে ক্রেডিট কার্ডের মতো হওয়ায় এগুলো সহজে শনাক্ত করা যায় না। এই স্পাই ডিভাইসগুলো সিমের মাধ্যমে যুক্ত করে অসাধু পরীক্ষার্থীরা নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার হলে নিয়ে যায়। অন্যপ্রান্তে যুক্ত থাকে প্রশ্নপত্র জালিয়াত চক্রের সদস্যরা। ক্রেডিট কার্ড সদৃশ ডিভাইসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনকামিং কল রিসিভ করে। ইয়ারপিসটি কানের ভেতরে রাখা হয়, বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না। এর মাধ্যমে পরীক্ষার হলের বাইরে থাকা অসাধু চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরীক্ষা শেষে অসাধু পরীক্ষার্থীরা স্বচ্ছ এক্সট্রাকশন থ্রেডের মাধ্যমে ইয়ারপিসটি নিরাপদে বের করে আনে।

পাচার চক্রের এই দুজনের বিরুদ্ধে আজ বিমানবন্দর থানায় (১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এর ২৫ বি এর ১ (বি) / ২৫-ডি ধারা) মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অপারেশনাল কমান্ডার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মোজাম্মেল হক বলেন, স্পাই ডিভাইসগুলো আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য। এর আগে জালিয়াতির কাজে অসাধু ব্যক্তিরা নিয়োগ পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষায় ব্যবহার করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

রিকশায় বসা হাদিকে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫: ৪৯
শরিফ ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত
শরিফ ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, বেলা ২টা ১০ মিনিট বা ২০ মিনিটের দিকে হাদি রিকশায় চড়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। সে সময় পেছন থেকে মোটরসাইকেলে এসে দুই যুবক গুলি করে পালিয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং হামলাকারীদের শনাক্তে চেষ্টা চলছে।

ঢামেক হাসপাতালে হাদির সঙ্গী ও সমর্থকদের ভিড় জমেছে। তাঁর সতীর্থরা জানান, তিনি জরুরি বিভাগে রয়েছেন, প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিৎসকেরা ‘বি নেগেটিভ’ রক্ত জোগাড় করতে বলেছেন।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. সেলিম বলেন, হাদির মাথা থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় গুলি লেগেছে। তাঁকে জরুরি বিভাগের ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড ক্যাজুয়ালটি সার্ভিস (ওসেক) ইউনিটে নেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত