Ajker Patrika

কাপড় শুকানো নিয়ে বিবাদে দুই ভাইকে মারধর, একজনের মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি
কাপড় শুকানো নিয়ে বিবাদে দুই ভাইকে মারধর, একজনের মৃত্যু
শুক্রবার সকালে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামটস্ত মোল্যাবাড়ি সড়কের বিহারি কলোনিতে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরে জুয়েল মোল্যা (৪০) নামে এক প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। একই ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই সিঙ্গাপুর প্রবাসী সোহেল মোল্যাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের মা রোকেয়া বেগম আহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকালে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামটস্ত মোল্যাবাড়ি সড়কের বিহারি কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মনিরউদ্দিন আনসারীর মেজ ছেলে।

এ ঘটনায় দুজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন—সরফরাজ (৫০) ও তাঁর স্ত্রী মনি বেগম (৪৫)। তাঁরা ওই এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা এবং দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তির টিনশেড ঘরে বসবাস করে ভাঙারি মালামালের ব্যবসা করে আসছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জুয়েল মোল্যাদের বাড়ির সামনে রশি টানিয়ে রোদে কাপড় শুকাতে যান সরফরাজের স্ত্রী মনি বেগম। এ সময় তাঁকে বাধা দেন জুয়েল মোল্যা। তাৎক্ষণিকভাবে বাড়িতে গিয়ে স্বামী ও দুই ছেলেকে ঘটনাটি জানান। পরে স্বামী সরফরাজ, দুই ছেলে শাহরিয়ার (২৩) ও সিফাত (২০) এবং তাঁদের কয়েকজন কর্মচারী দেশীয় অস্ত্র কাঠের বাটাম, লোহা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জুয়েল মোল্যাদের বাড়িতে হামলা করে। জুয়েল মোল্যাকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর ছোট ভাই ও মা এগিয়ে গেলে তাঁদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা দুই ভাইকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল মোল্যাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারী চারজনকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে কৌশলে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

তবে নিহতের ছোট বোন তিন্নি বেগম দাবি করেছেন, তাঁদের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা। আমাদের এই জায়গা বিক্রি করতে চেয়েছি। এ কথা জানার পর থেকেই সরফরাজের কাছে বিক্রি করার জন্য আমাদের ওপর ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করে। আমার ভাই মূলত তাঁদের জমি না দেওয়ার ক্ষোভে পরিকল্পিতভাবে আমার দুই ভাইকে মেরে ফেলার জন্য সামান্য কারণ নিয়ে এ হামলা চালিয়েছে। আমার এক ভাইকে ওরা মেরে ফেলেছে, আরেক ভাই বাঁচবে কি-না আল্লাহ জানে। আমি ওদের কঠিন বিচার চাই।’

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তা আজমীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ১০টার দিকে ৯৯৯-এর মাধ্যমে জানতে পারি দুই প্রতিবেশীর মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে জুয়েল নামে একজন মারা যায়। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে থানায়। এ ঘটনায় দুইজনকে আমরা আটক করেছি। সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত