Ajker Patrika

কুয়াকাটায় আগুনে পুড়ল ৮ দোকান, ক্ষতি প্রায় অর্ধকোটি টাকা

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
কুয়াকাটায় আগুনে পুড়ল ৮ দোকান, ক্ষতি প্রায় অর্ধকোটি টাকা
আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকান। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় অগ্নিকাণ্ডে আটটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। এতে আরও তিনটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পৌর শহরের বেড়িবাঁধের বাইরে সি-কুইন হোটেল-সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে দুটি খাবারের হোটেল, দুটি কাপড়ের দোকান, একটি মুদি-মনিহারি দোকান, একটি ঝিনুকের দোকান, একটি জেনারেটরের দোকান ও একটি চায়ের দোকান পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারেননি।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন সালমা বেগম (হোটেল তিন কন্যা), নাসির হাওলাদার (বিসমিল্লাহ হোটেল), শহীদ সিকদার (ঝিনুকের দোকান), বেল্লাল হোসেন (কাপড়ের দোকান), মিলন (মুদি-মনিহারি দোকান), মিলন (জেনারেটরের দোকান) এবং একটি চায়ের দোকানের মালিক।

ব্যবসায়ীদের একটি অংশের দাবি, শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের একটি কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। সেখানে লেপ-তোশক ও বালিশ রাখা ছিল এবং শিক্ষার্থীরা কয়েল জ্বালিয়ে রেখেছিল বলে অভিযোগ। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, কোনো খাবার হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে অধিকাংশ দোকানই তালাবদ্ধ ছিল। একটি ঘরে লোকজন থাকলেও তারা নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন। আগুন লাগার পরপরই পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন এবং পাশের দোকানগুলোর মালপত্র সরিয়ে নিতে চেষ্টা করেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়ার এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। যদিও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খবর পাওয়ার পর সকাল ৮টার দিকে তাঁরা পৌঁছান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কুয়াকাটা পর্যটন শহর হলেও এখানে ফায়ার সার্ভিসের কোনো স্টেশন নেই। কলাপাড়া থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। ফলে দূর থেকে আসতে সময় লেগে যায়। দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে কুয়াকাটায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানান তাঁরা।

পবিত্র রমজানের মধ্যে এমন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের সহায়-সম্বল আগুনে পুড়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ ও মহিপুর থানা-পুলিশ। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল হোসেন বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর সকাল ৮টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে বলা যাবে।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, ‘রমজানের মধ্যে এটি দুঃখজনক ঘটনা। সরেজমিনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত