Ajker Patrika

‘নাম লুকিয়ে’ বিক্রি হচ্ছে ইসরায়েলি খেজুর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২: ৫৪
‘নাম লুকিয়ে’ বিক্রি হচ্ছে ইসরায়েলি খেজুর

বিশ্বজুড়ে রমজান মাসে প্রায় সবার খাবার তালিকায় সর্বপ্রথম যে উপাদানটির নাম থাকে তা হলো খেজুর। আর খেজুরপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলো মেডজুল খেজুর। বিশেষ করে রোজার সময়, পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা আরও বেড়ে যায়।

তবে এটি জেনে অনেকেই অবাক হবেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেডজুল খেজুর সরবরাহকারী দেশ হচ্ছে ইসরায়েল, যা মূলত ফিলিস্তিন থেকে দখল করা জমিতে চাষ করে এই খেজুর উৎপাদন করছে। ‘নাম লুকিয়ে’ বা ভিন্ন মোড়কে এই খেজুর বিক্রি করছে ইসরায়েল।

আল-জাজিরা জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে খাওয়া মেডজুল খেজুরের প্রায় ৫০ শতাংশ আসে ইসরায়েল থেকে। এদের একটি বড় অংশ চাষ হয় ফিলিস্তিন থেকে দখল করা ভূমিতে। জর্ডান সীমান্তবর্তী পশ্চিম তীরের জেরিকো এলাকায় ইসরায়েলিরা বিশাল খেজুরবাগান গড়ে তুলেছে। ফিলিস্তিনি এক খেজুর বিক্রেতা বলছেন, ‘এগুলো মূলত আমাদের জমি, কিন্তু তারা দখল করে চাষ করছে।’

ফিলিস্তিনি ভূমিতে চাষ হওয়ায় ইসরায়েলি মেডজুল খেজুরের প্যাকেজিংয়ে কখনো ‘ইসরায়েলি পণ্য’ বা ‘জর্ডান উপত্যকার পণ্য’ লেখা থাকে। ফলে মূল উৎপাদনস্থল লুকানো হয় এবং মুনাফা যায় ইসরায়েলের কাছে। এই খেজুর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং আরব দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।

ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী, দখল করা ভূমি থেকে আসা পণ্যকে শুধু ‘ইসরায়েলি পণ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা যথেষ্ট নয়; উৎসস্থল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। তবে ইসরায়েলের মেডজুল খেজুরের ক্ষেত্রে এই আইন প্রায়ই মানা হয় না। কিছু রপ্তানিকারক মধ্যবর্তী দেশ বা মুক্তবাণিজ্য অঞ্চলের মাধ্যমে পণ্য পুনঃ প্যাকেট করে উৎপাদনস্থল আড়াল করে ইউরোপে পাঠায়।

২০২৫ সালে বৈশ্বিক খেজুরবাজারের মূল্য ছিল ৩২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালে ৩৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর আশা আছে। বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ ধরে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাজারের আকার ৫৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের খেজুর উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ৯০ লাখ টনের বেশি, যা ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারের ৮৫ দশমিক ২৮ শতাংশ দখল করে। ২০২৫ সালে এই অঞ্চলের বাজারমূল্য ছিল ২৭ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালে বেড়ে ২৯ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার হবে। প্রধান উৎপাদক ও ভোক্তা দেশগুলো হলো তিউনিসিয়া, ইরান, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও মিসর, যেখানে মিসরের উৎপাদন ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন টনের বেশি।

যদিও ইসরায়েলের উৎপাদন মিসর বা সৌদি আরবের তুলনায় কম, তবুও প্রিমিয়াম মেডজুল খেজুর রপ্তানিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। তবে উৎপাদন ও রপ্তানি পরিসংখ্যানের মধ্যে মিল না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল বছরে প্রায় ৩৫ হাজার টন খেজুর রপ্তানি করে, অথচ স্বীকৃত সীমার ভেতরে উৎপাদন মাত্র ৮ হাজার ৮০০ টন। যদি তথ্য সঠিক হয়, তাহলে ইসরায়েলি খেজুর রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি দখলকৃত জমি থেকে আসতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ: বেশির ভাগ উঠবে না সংসদে

রোজার সময় সহবাসের নিয়ম ও বিধান

অবশেষে তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রার্থী ঘোষণা, কে তিনি

কবি মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমি পুরস্কার না পাওয়ার যে কারণ জানালেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

ফরিদগঞ্জে শৌচাগার থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত