Ajker Patrika

ফের কেন আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল পাকিস্তান

আব্দুর রহমান 
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২: ১৯
ফের কেন আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল পাকিস্তান
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রথম মেয়াদে পাকিস্তান খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সময় তালেবান সরকারের বন্ধুতে পরিণত হয়েছিল পাকিস্তান। অবশ্য শিকড় আরও গভীরে। ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসন শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে তালেবানদের সহায়তা দিয়েছিল। তখন থেকেই পাকিস্তান আফগানিস্তানে তালেবানদের মিত্র হয়ে ওঠে। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তান সীমান্তে তালেবানের হামলা এবং তারপর কাবুলসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানের হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, তারা আর মিত্র নেই; ঘোরতর শত্রুতে পরিণত হয়েছে।

এই শত্রুতা অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। তালেবান সরকার এরই মধ্যে কয়েক দফায় পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে সীমান্তে। পাকিস্তানও বেশ কয়েকবার সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানের ভেতরে গিয়ে হামলা চালিয়ে এসেছে। সর্বশেষ আজ শুক্রবার ভোরে পাকিস্তানি বিমানবাহিনী কাবুল পর্যন্ত গিয়ে বোমা ফেলে এসেছে। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এসেছে। অন্তত হামলা আর চলছে না। বিশ্লেষকেরা বলছেন, তালেবান সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়াতে চায় না।

গতকাল বৃহস্পতিবার সীমান্তে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানের ওপর আফগান বাহিনীর হামলার জেরে দুই দেশে লড়াই ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ অন্যান্য শহরে বোমা হামলা চালায় পাকিস্তান। দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসলামাবাদ।

কাবুল থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি নাসের শাদিদ আজ ভোরে জানান, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে আফগান রাজধানীতে প্রথম বিমান হামলা চালানো হয়, যার কিছুক্ষণ পরই দ্বিতীয় দফায় বোমা বর্ষণ করা হয়। তিনি আরও জানান, প্রথম হামলার পরপরই আফগান বিমানবিধ্বংসী কামানগুলো থেকে গুলি চালানো শুরু হয় এবং দ্বিতীয় দফার হামলার পরও তা অব্যাহত ছিল।

আফগান সরকারের একটি সূত্র আল জাজিরাকে কাবুলে বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলো দক্ষিণ আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি কড়া বার্তার মাধ্যমে আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি যুদ্ধের’ ঘোষণা দেন।

আফগান বাহিনীর হামলায় পাকিস্তানি সেনা হতাহত হওয়ার পর আফগানিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে পাকিস্তানের সিরিজ বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে ঘোষণাটি আসে। খাজা আসিফ লেখেন, ‘সরাসরি এবং বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পাকিস্তান সব রকম চেষ্টা করেছিল। পাকিস্তান পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়েছিল।’ খাজা আসিফ আরও যোগ করেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন তোমাদের ও আমাদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো।’ এর আগে বেশ কিছু প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর গত অক্টোবরে দুই পক্ষ একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, যদিও এরপরও বিচ্ছিন্নভাবে লড়াই চলছিল।

আফগানিস্তান-পাকিস্তান সম্পর্কের সাম্প্রতিক অবনতি আজ থেকে চার বছর আগে কল্পনাও করা কঠিন ছিল। সে সময় ইসলামাবাদের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব ২০২১ সালের আগস্টে কাবুলে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরা উদ্‌যাপন করেছিলেন। পাকিস্তানের বিশ্বাস ছিল, তালেবান সরকার তাদের বন্ধুপ্রতিম হবে এবং দেশটির নিরাপত্তার জন্য একপ্রকার ঢাল হিসেবে কাজ করবে। কারণ, দুই দশকের বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) আফগান তালেবান আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে এসেছে।

এর আগে ২০০১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পাকিস্তানের এই নীতির কারণে তৈরি হয়েছিল একধরনের পরস্পরবিরোধী কূটনীতি। একদিকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে ওয়াশিংটন-সমর্থিত সরকারগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে গেছে। অন্যদিকে তারা গোপনে তালেবানের পুনরুত্থান সহ্য করেছে, অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্রয়ও দিয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের ভেতরেই তালেবানরা অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সহাবস্থানের পথ বেছে নেয়।

কিন্তু এখন সেই সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। গত বছরের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানি বিমানবাহিনী কাবুলে হামলা চালায়। দুই পক্ষের পারস্পরিক প্রত্যাশার অমিল এবং একে অপরের সামর্থ্যের প্রতি অসম্মান—এই দুই কারণে আগের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে পড়ছে।

গত বছরে পাকিস্তান এবং তালেবান সংঘাতে জড়ালেও একটি দুর্বল যুদ্ধবিরতি চুক্তি দিয়ে তারা বাঁধা ছিল। বিগত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে আত্মঘাতীসহ একাধিক সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। যার পেছনে পাকিস্তান আফগানিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপিকে দায়ী করে আসছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ কাবুলের তালেবান সরকার টিটিপিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। কারণ, আফগান তালেবান এবং পাকিস্তান তালেবানের মধ্যে আদর্শিক মিল রয়েছে। এই বিষয়ে অবশ্য আফগানিস্তানের তালেবান কখনোই দৃঢ়ভাবে সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করেনি।

২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আবারও আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালায়। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা বহরে আত্মঘাতী হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই আফগানিস্তানে এই বিমান হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় এক লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক একাধিক হামলার পেছনে থাকা আফগান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ‘ক্যাম্প ও আস্তানা’ লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এসব হামলার মধ্যে ইসলামাবাদের এক শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় বহু মুসল্লির মৃত্যু হয়।

সে সময় পাকিস্তানি বাহিনী পাকতিকা প্রদেশের একটি ধর্মীয় বিদ্যালয়ে ড্রোন হামলা চালায়। পাশাপাশি নানগারহার প্রদেশেও হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, সীমান্ত অঞ্চলে আইএসের একটি সহযোগী গোষ্ঠীকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় দাবি করে, ইসলামাবাদসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্ব ও সমন্বয়কারীদের নির্দেশে চালানো হয়েছে, এমন ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ তাদের কাছে আছে।

পাকিস্তান বারবার তালেবান সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে যেন আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অন্য দেশে হামলা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু কাবুল এ ব্যাপারে কোনো ‘কার্যকর পদক্ষেপ’ নেয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান সব সময় অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। তবে পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে জোহরের নামাজের সময় আরেক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে অন্তত ৩১ জন মুসল্লি নিহত এবং ১৭০ জন আহত হন। আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করে।

কড়া নিরাপত্তায় থাকা রাজধানীতে বোমা হামলা বিরল। তবে খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে হামলাটি ছিল তিন মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ঘটনা। এতে পাকিস্তানের বড় শহরগুলোতে আবারও সহিংসতা ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দেয়। সে সময় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, এই হামলার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও উসকানি আফগানিস্তানেই হয়েছে।

রোববারের বিবৃতিতে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানায়, তারা যেন তালেবানকে চাপ দেয়। ২০২০ সালে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তির প্রতিশ্রুতি তালেবান যেন রক্ষা করে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, আফগান ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। মন্ত্রণালয় বলেছে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এই পদক্ষেপ ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে। এর বেশির ভাগের জন্য টিটিপি এবং নিষিদ্ধ বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে, টিটিপি আফগানিস্তানের ভেতর থেকে কার্যক্রম চালায়। তবে গোষ্ঠীটি এই অভিযোগ অস্বীকার করে। তালেবান সরকারও ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে, তারা পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেয়। অক্টোবর থেকে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। ওই সময় সীমান্তে সংঘর্ষে বহু সেনাসদস্য, বেসামরিক নাগরিক এবং সন্দেহভাজন যোদ্ধা নিহত হন।

দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, পাকিস্তান আশা করেছিল তালেবান ক্ষমতায় এলে তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আফগান তালেবান তাদের আদর্শিক ভাই ’টিটিপি’র বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে নারাজ, যা পাকিস্তানকে হতাশ করেছে।

যাই হোক, দুই পক্ষের মধ্যে এই ক্রম অবনতিশীল পরিস্থিতিতে আগুনে ঘি ঢেলেছে কাবুল-নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠতা। কাবুল ও নয়াদিল্লির মধ্যে সাম্প্রতিক সম্পর্ক উন্নয়নের তৎপরতা দৃশ্যত পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাতে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে সমস্যা কয়েক বছর ধরেই চললেও পাকিস্তানের জন্য বাড়তি উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে তার চিরবৈরী প্রতিবেশী ভারতের দিক থেকে কাবুলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহ। ভারত এখনো আফগানিস্তানের কট্টর ইসলামপন্থী তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। সারা দুনিয়ায় একমাত্র পুতিনের রাশিয়াই তা করেছে।

মাস কয়েক আগে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় নয়াদিল্লি। কাবুলে পুরোমাত্রায় দূতাবাস খুলতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত। কেউ কেউ মনে করছেন, ভারতে মুত্তাকিকে যেভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে, তা-ও সম্ভবত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সীমান্তে সংঘাতের মাত্রা এ রকম পর্যায়ে নিতে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু খোদ পাকিস্তানি পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, সার্বিক বিবেচনায় আফগানিস্তানের সঙ্গে খিটিমিটিকে আর বাড়তে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

এ ছাড়া ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত নিয়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ আছে। সন্ত্রাস ও চোরাচালান ঠেকানোর লক্ষ্যে পাকিস্তান বছর কয়েক আগে এ সীমান্তে বেড়া তৈরির কাজ হাতে নেয়, যা এখনো শেষ হয়নি। আফগান সরকার এখনো ‘ডুরান্ড লাইন’ নামে পরিচিত এ সীমান্তকে স্বীকৃতি দেয়নি। তারা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমের কিছু অংশকে নিজেদের ভূখণ্ড বলেও দাবি করে। ফলে এই বেড়া নির্মাণ নিয়ে আফগানিস্তানের আপত্তি আছে। এই বিষয়ে প্রখ্যাত পাকিস্তানি সাংবাদিক ও গবেষক আহমেদ রশিদ মনে করেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার এই ছায়াযুদ্ধ মূলত পশতুন জাতীয়তাবাদের ফসল। আফগান তালেবান নিজেদের জাতীয়তাবাদী ভাবমূর্তি বজায় রাখতে ডুরান্ড লাইন ইস্যুতে নমনীয় হতে পারছে না।

বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, আফগান সরকার তাদের ভূখণ্ডে টিটিপির অস্তিত্ব স্বীকার করে কিছু ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এই দ্বন্দ্ব মিটবে না। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট, সামরিক সংঘাত এর কোনো সমাধান নয়। কূটনীতি তথা আলোচনাই হতে হবে মূল উপায়।

দুই সেনাবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধ এক, আর পর্বতসংকুল দুর্গম ভূখণ্ডে জঙ্গি গোষ্ঠীর গেরিলা কায়দার লড়াই সম্পূর্ণ আরেক বিষয়। এর মধ্যে তৃতীয় পক্ষের মদদ বা হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে করতে পারে আরও জটিল। কাহিল অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কোন্দলে জেরবার পাকিস্তানের সামরিক-বেসামরিক কোনো পক্ষই আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীর সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের পক্ষে নয়। আবার বিশ্ব থেকে এখনো অনেকটা বিচ্ছিন্ন, নানাবিধ অবরোধের চাপে ক্লিষ্ট তালেবানশাসিত আফগানিস্তানের জন্যও যুদ্ধ সর্বনাশ ডেকে আনবে।

দুই পক্ষের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্রগুলো উত্তেজনা হ্রাস ও বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। আফগানিস্তানের ওপর ইদানীং চীনের প্রভাব যথেষ্ট, যারা কিনা আবার পাকিস্তানের পুরোনো, পরীক্ষিত মিত্র। আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থ ও আগ্রহ থাকা ভারতও যে এই তালিকায় থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কবি মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমি পুরস্কার না পাওয়ার যে কারণ জানালেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

অবশেষে তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রার্থী ঘোষণা, কে তিনি

ফরিদগঞ্জে শৌচাগার থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার

বরিশালে এজলাসে তাণ্ডবের নেপথ্যে কী? চাঞ্চল্যকর অডিও ফাঁস

সেনাবাহিনীর আরও ৬ উচ্চ পদে রদবদল, নতুন কিউএমজি শাহীনুল হক

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত