Ajker Patrika

টাকা চাওয়ায় প্রেমিকাকে হত্যা

কেরানীগঞ্জে কিশোরীকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে কিশোরীকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন
অভিযুক্ত প্রেমিক মো. রানা হাওলাদার। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্রেমের সম্পর্কের জেরে তানজিলা (১৭) নামের এক কিশোরীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় কিশোরীর প্রেমিক মো. রানা হাওলাদারকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, কিশোরীর দুটি স্মার্টফোন এবং রুপার চেইন ও ব্রেসলেট উদ্ধার করা হয়েছে। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মো. রানা হাওলাদারকে শনাক্ত করেছে পিবিআই। ২৯ জুলাই ভোর সাড়ে ৩টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পিবিআই উত্তরাস্থ ঢাকা জেলার কার্যালয়ের পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২৭ জুলাই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাঘৈর এলাকায় খালার বাসায় দুপুরের খাবার খেয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন কিশোরী তানজিলা। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন ২৮ জুলাই কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মদিনানগর এলাকার একটি ফাঁকা জায়গা থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার মা মরদেহ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে ২৯ জুলাই পিবিআই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটির তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইদুল হক।

পিবিআই জানায়, কেরানীগঞ্জে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন রানা হাওলাদার। ৬-৭ মাস ধরে তানজিলার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে তানজিলা রানার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। এই টাকা দিতে না পারায় তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।

পিবিআই আরও জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে রানা নিজের অটোরিকশায় তানজিলাকে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মদিনানগর এলাকার একটি ফাঁকা হাউজিং প্লটে নিয়ে যান। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রথমে তার গলা চেপে ধরেন। পরে ফল কাটার ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। হত্যার পর তানজিলার দুটি স্মার্টফোন, রূপার চেইন ও ব্রেসলেট নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান রানা।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তী সময়ে মামলাটি অধিগ্রহণ করে নিরলস, প্রযুক্তিনির্ভর ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত