Ajker Patrika

রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু: ঢাবি

ঢাবি প্রতিনিধি
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৫৪
রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু: ঢাবি
ফাইল ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সক্রিয় করার চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের কথিত অপতৎপরতা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী এবং সুস্পষ্টভাবে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল। এসব অপতৎপরতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্রবিরোধী, আইনবিরোধী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা, নৈতিক অবস্থান ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩-এর ৫৬(৩), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্ট্যাটিউটসের ৪৫(৩) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অরডিন্যান্স অ্যান্ড রেগুলেশনসের চ্যাপটার ২০-এর বিধি ১৩ অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অশিক্ষকসুলভ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চ্যাপটার ২০-এর বিধি ১৩(২) অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ কিংবা বরখাস্তের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান এবং দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত