Ajker Patrika

গুলশান ও বনশ্রীতে ২ কলেজছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু

ঢামেক প্রতিবেদক
গুলশান ও বনশ্রীতে ২ কলেজছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু
ফাইল ছবি

রাজধানীর গুলশান ও রামপুরার বনশ্রী এলাকায় দুই নারী শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পরিবার ও পুলিশ বলছে, একজন গলায় ফাঁস দিয়ে ও অপরজনের বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে। তবে আজ রোববার দুজনেরই মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হয়েছে।

নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন—রামপুরা বনশ্রী এলাকার লাইকা মিলিন (১৮)। তিনি বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার। অপরজন অনিপা নিন্দিয়া (২৫)। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় থাকতেন। অনিপা লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

ঢামেক হাসপাতালে লাইকা মিলিনের বাবা শাহাদাত হোসেন জানান, আজ রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সবার অজান্তে ঘরের দরজা বন্ধ করে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁসি দেয় তার মেয়ে। পরে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।

তবে কি কারণে এমন ঘটতে পারে সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি রামপুরা থানা–পুলিশকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে অনিপা নিন্দিয়ার ভাই আকিল ভূঁইয়া জানান, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর রোডে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে অনিপাসহ চারজন থাকতেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে পুলিশের মাধ্যমে অনিপার মৃত্যুর সংবাদ পাই। এরপর ওই বাসায় গিয়ে মরদেহ দেখতে পাই। ঈদের ছুটি শেষ করে গত রোববার ঢাকায় অনিপা ঢাকায় এসেছিলেন। দুই দিন আগে ফোন করে অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন।

আকিল জানান, তাদের বাড়ি চাদপুর জেলার মতলব উত্তর থানা এলাকায়। তার বাবা আশফা ভূঁইয়া মালয়েশিয়া প্রবাসী, তবে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে থাকেন। অনিপা লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে অনিপা সবার বড় ছিলেন।

তবে কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি ভাই আকিল।

এ বিষয়ে ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাহাতুল ইসলাম সৈকত সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে খবর পেয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ওই বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী নেশাগ্রস্ত ছিলেন। তিনি অ্যালকোহল পান করতেন। তাঁর রুমের অ্যালকোহলের খালি বোতল পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে—অ্যালকোহলের বিষক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত