
কেউ ত্রস্ত হাতে কাটছেন কাপড়, কেউ ব্যস্ত সেলাইয়ে, কেউ আবার সদ্য বানানো পোশাকটিকে ভাঁজমুক্ত করে তুলে রাখতে চালাচ্ছেন ইস্তিরি। রমজান মাসে রাজধানীর টেইলার্সগুলোর চিরচেনা চিত্র এটি। এবারও তার তেমন ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদের আগে নির্দিষ্ট দিনে অর্ডারদাতাদের পোশাক বুঝিয়ে দিতে ব্যস্ত কারিগরেরা। তবে কাজের ব্যস্ততা থাকলেও সার্বিকভাবে দরজিঘরের মালিকেরা হতাশ। এর কারণ তৈরি পোশাকের (রেডিমেড) দাপটে বেশ কয়েক বছর ধরে পোশাক বানানোর প্রবণতা কমেই চলেছে।
দরজিপাড়ার কেউ কেউ ইতিমধ্যেই নতুন পোশাকের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। দু-চার জায়গায় আবার ২৮ রমজান পর্যন্ত নেওয়া হবে অর্ডার! তাদের আছে এমন পরিস্থিতি সামলানোর বিশেষ ব্যবস্থা।
রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটের নূর ম্যানসন শপিং সেন্টারের অনন্যা ফ্যাশন টেইলার্সের মাস্টার মোহাম্মদ জাকির। ১৯৮৮ সাল থেকে এই মার্কেটে দরজির কাজ করছেন। জাকির বললেন, ‘লোকে আজকাল রেডিমেড পরে বেশি। আমাদের কাজ কম।’ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও এবার খদ্দের কম থাকার কারণ হিসেবে দায়ী করলেন এই প্রবীণ দরজি। তিনি বলেন, ‘দেশের অবস্থা তো ভালো না। আগে এমন সময়ও ছিল যে একজন অনেকগুলা জামা বানাইত! এখন হয়তো এক সেট বানায়।’
একই মার্কেটের নিপুণ লেডিস টেইলার্সের কর্ণধার জাকির হোসেন বলেন, ‘আগে কাজের চাপে ১০-১২ রোজার পর আর অর্ডার নিতে পারতাম না। কিন্তু এখন চাপ কম। ২৫-২৬ রোজা পর্যন্তও কাজ নেওয়া যাবে।’
গত দিনদুয়েক রাজধানীর ব্যস্ত ও জনাকীর্ণ এই মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আশপাশে হকারদের অস্থায়ী স্টল এবং ভবনের জামাকাপড়ের দোকানে ক্রেতার ভিড় থাকলেও দরজির দোকানগুলোয় ভিড় কম। অনন্যা ফ্যাশনের মাস্টার মোহাম্মদ জাকির বলেন, ‘হকারদের জ্বালায় মানুষ তো মার্কেটের ওপরে উঠতেই পারে না। রাস্তায় জ্যাম, হকারদের কাছে মানুষের ভিড়। অথচ আমাদের এলাকা ফাঁকা।’
দরজি মাস্টার ও কারিগরেরা জানান, বছর কয়েক আগে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই মূলত তাঁদের কাজের চাপ ধীরে ধীরে কমেছে। তার আগে ঈদের মৌসুমে বাড়তি কারিগর নেওয়া হতো। এখন সেটারও আর প্রয়োজন হয় না। আজকাল নানা বিচিত্র ডিজাইনের তৈরি পোশাকে আগ্রহ বেড়েছে। করোনার গৃহবন্দী সময়টাতে বহু অনলাইনভিত্তিক পোশাক বিক্রেতা তৈরি হয়েছে। তাঁদের অনেকেই প্রতিযোগিতামূলক দামে বিভিন্ন ধরনের পোশাক বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। তাই কাপড় কিনে পোশাক তৈরির পেছনে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে চাচ্ছেন না অনেকেই। তা ছাড়া অনেক নারীও এখন নকশা বলে দিলে ঘরে বসে কম মজুরিতে পোশাক সেলাইয়ের কাজ করে দেন। এসব কারণে দরজির দোকানে খদ্দের আসা কমছে।
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, দরজির দোকানগুলোর মজুরি অনেক বেড়ে গেছে। ঈদ উপলক্ষে তা আরও বেড়ে যায়। গাউছিয়া মার্কেটে আসা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার বললেন, ‘টেইলার্সে ড্রেস বানাতে দিলে খরচ অনেক বেশি পড়ে যায়। আজকাল ৭০০ টাকার নিচে মজুরি হয়ই না। এই টাকায় তো আমি একটা নতুন কুর্তিই কিনে ফেলতে পারি। তা ছাড়া টেইলার্সে একটা ড্রেস দিয়ে কয়েক দিন তার পেছনে ঘুরতে হয়। সময়, শ্রম, টাকা—সবই যায়।’
ঈদের কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী শামসুন্নানাহার মুক্তা বলেন, ‘গত বছরের ঈদের সময়ও ৫০০ টাকা দিয়ে থ্রি-পিস বানাতে পারছি। এ বছর বলতেছে ৮০০-র নিচে হবে না। এক বছরের মধ্যে কী এমন হইল যে মজুরি প্রায় ডাবল করতে হবে! জামার কাপড় কিনে বাসায় রেখে দিছি। পরে বানাব। ঈদের দিন নতুন জামা পরতেই হবে, এমন কোনো কথা নাই।’

প্রতিষ্ঠার সাত দশকেও পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহির্বিভাগে নির্মাণ করা হয়নি বিশ্রামাগার। ফলে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাঁর স্বজনেরা। রোগী নিয়ে বহির্বিভাগের সামনে গাদাগাদি করে, কখনো খোলা মাঠে বা গাছতলায় বসে থাকতে হয় স্বজনদের।
৩ ঘণ্টা আগে
পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যমান কক্সবাজার পৌরসভাকে সম্প্রসারণ করে রামু ও কক্সবাজার সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের কিছু এলাকা অন্তর্ভুক্ত করে বৃহত্তর নগর প্রশাসন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
নাটোরের গুরুদাসপুরে খেলার মাঠ উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল শুক্রবার উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী হাট মাঠে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আনিছুর রহমান।
৩ ঘণ্টা আগে
জনবলসংকট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, অপারেশন থিয়েটার না থাকাসহ নানা সমস্যায় ধুঁকছে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীরা। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে তাদের জেলা শহরে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের সময় ও অর্থ—দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে