Ajker Patrika

৬ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন, কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিট

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০০: ০৯
৬ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন, কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিট
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারায় মনজুর খান প্লাজার একটি গোডাউনে লাগা আগুন ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সাততলা ভবনটির ষষ্ঠ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট। গোডাউনগুলো তালাবদ্ধ ও বদ্ধ জায়গায় অবস্থিত হওয়ায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এরই মধ্যে আগুন ভবনটির পঞ্চম তলা ও পাশের আরও একটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আজ বিকেল ৫টা ২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। ৫টা ৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রথমে পাঁচটি ইউনিট কাজ করলেও পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আজকের পত্রিকাকে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। গোডাউন বন্ধ ও বদ্ধ জায়গায় হওয়ায় সহজে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। তবে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মনজুর খান প্লাজার দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত দোকান ও পঞ্চম থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত গোডাউন রয়েছে। এসব গোডাউনে ভ্যানিটি ব্যাগ, প্রসাধনসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য মজুত করা হয়। অধিকাংশ গোডাউনই মালামালে পরিপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আজ বিকেলে ভবনটির ষষ্ঠ তলার এক পাশে প্রথমে আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর দোকান ও গোডাউনের মালিক-কর্মচারীরা সেগুলো বন্ধ করে বেরিয়ে যান। অধিকাংশ গোডাউন তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেগ পেতে হয়। গোডাউনগুলোতে বিপুল পরিমাণ মালামাল থাকায় আগুনের তীব্রতাও বাড়তে থাকে।

ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা রাশেদ বিন খালিদ জানান, ভবনের ভেতরে প্রচুর ধোঁয়া থাকায় আগুন নেভানোর কাজে সমস্যা হচ্ছিল। একপর্যায়ে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও পরে তা আবার ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে বাধার মুখে পড়ে। আগুন লাগার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজনের ভিড় জমে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করেন।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন আরও জানান, ভবনটির ষষ্ঠ তলার অধিকাংশ কক্ষ গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেগুলো তালাবদ্ধ থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। সরু গলির কারণেও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পাশের ভবন থেকেও আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ভবনের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না কিংবা এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত