
সেলিম রহমান, পেশায় একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। গতকাল সোমবার রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে এক দোকানে ছোট্ট একটি তালিকা দেখে দেখে পোশাক কিনছিলেন। কেনাকাটার একপর্যায়ে বলেন, মাত্র সাত হাজার টাকায় স্ত্রী, দুই সন্তান আর বৃদ্ধ মায়ের জন্য ঈদের কেনাকাটা সেরেছেন।
ব্যাগভর্তি কাপড় হাতে নিয়ে স্বস্তির হাসি সেলিমের মুখে। বলেন, ‘বেশি দামি কাপড়ের চেয়ে পছন্দের জিনিস অগ্রাধিকার দিচ্ছে আমার স্ত্রী।’ সেলিম বলেন, ‘সবাই যদি নতুন কাপড় পরে একসঙ্গে ঈদ করতে পারি, ওটাই আমাদের আনন্দ।’
গতকাল রাজধানীর বেশ কিছু শপিং মলে কয়েকজন নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ প্রায় এমন কথাই বলেন এই প্রতিবেদকের কাছে। তাঁদের অধিকাংশের ভাষ্য, সামর্থ্যের মধ্যে সবার জন্য কেনাকাটা পরিবারের ঈদ উৎসবের বড় আনন্দ।
গত দুই দিন সরেজমিনে দেখা যায় বিভিন্ন মার্কেট, শপিং মল ও ফুটপাতের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। তবে বেশির ভাগ ক্রেতাই মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ক্রেতারা বলছেন, নানান বাস্তবতায় এবার ঈদের কেনাকাটা করতে হচ্ছে হিসাব কষে। নিউমার্কেট এলাকার এক দোকানি বলছেন, ‘সব শ্রেণির মানুষ আমাদের এখান থেকে কেনাকাটা করতে আসে। শেষ ভাগে ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতাদের ভিড় বেশি।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতা থাকলেও অনেকে খুব হিসাব করে কেনাকাটা করছেন। কম দামের পোশাকেই ঝুঁকছেন অধিকাংশ ক্রেতা। অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়-ব্যয়ের চাপে ঈদের কেনাকাটাতেও তার প্রভাব পড়েছে। তবে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছেন অনেকে।
দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির তথ্যমতে, ঢাকায় সাড়ে সাত শ মার্কেটের মধ্যে দোকান রয়েছে প্রায় আড়াই লাখ। তার অর্ধেকেই পোশাকের দোকান। রমজানে এ পর্যন্ত সারা দেশে (পাইকারি ও খুচরা) পোশাকে আনুমানিক ৭০ হাজার কোটি টাকা বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। ক্রেতা অধিকাংশ মধ্যবিত্ত থেকে নিম্ন আয়ের মানুষ।
রাজধানীর গুলিস্তান, চকবাজার, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, সায়েন্স ল্যাব এলাকা, বসুন্ধরা সিটিতে গিয়ে দেখা যায়, কেনাকাটা জমে উঠেছে। মার্কেটের পোশাকের দোকান থেকে শুরু করে চশমা, হাতঘড়ি, জুতা, বেল্ট, চুড়ি, কসমেটিকের সামগ্রীসহ নানান পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। কাপড়ের মান অনুযায়ী পাঞ্জাবির দাম ৪০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। থ্রি-পিস মান অনুযায়ী ১২ হাজার টাকার বেশিও রয়েছে।
এলিফ্যান্ট রোড এলাকার দোকানি রাজিব মিয়া বলেন, ‘গত রমজানের তুলনায় এবার বেচাকেনা বেশি। বিয়ের কাস্টমার বেশির ভাগ ঢাকার বাইরের ক্রেতা। আমাদের এখানে শেরওয়ানি সেট ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
ক্রেতা আমেনা বেগম বলেন, গতবারের তুলনায় এবার দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। অন্য এক ক্রেতা বলেন, আগে যে জামা কিনেছি তিন হাজার টাকায়, সেটি এখন সাড়ে চার হাজারের বেশি। তবে বিক্রেতারা বলছেন, দাম আগের মতোই। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও ডিজাইনের বৈচিত্র্যের কারণে মান অনুযায়ী পোশাকের দাম খানিকটা বেশি।
ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মো. আরিফুর রহমান টিপু বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায়। এবার স্বস্তির মধ্যে ঈদযাত্রা ও উৎসব ভালো হবে বলে আশা তাঁর।
বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়িক মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, অধিকাংশ পণ্য ও দ্রব্যের ক্রেতা মধ্যবিত্ত থেকে নিম্ন আয়ের মানুষ।
অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান আজকের পত্রিকাকে বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেলে মানুষ আগে সেগুলোর জন্যই আয়-ব্যয় করে। ফলে পোশাক বা অন্যান্য উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটায় ব্যয় কমে গেছে। তিনি বলেন, অনেকের অর্থনৈতিক সমস্যা থাকলেও মানুষ ঈদ উপলক্ষে সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু কেনাকাটা করছে। এতেই ক্রেতারা আনন্দ পায়। অর্থনৈতিক ভাষায় এটিকে সীমিত আয়ের মধ্যেও অগ্রাধিকারভিত্তিক ভোগ বা উৎসবকেন্দ্রিক ভোক্তা চাহিদা বলা যেতে পারে। অর্থাৎ মানুষ তার বাজেট সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবের গুরুত্ব বিবেচনা করে কিছু ব্যয় করে থাকে।
সমাজবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সালমা আক্তার বলেন, দামের বিষয়টির পরিবর্তে মানুষের পারিবারিক আনন্দ এবং ত্যাগের বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, সম্প্রতি মানুষের আয়-ব্যয়ের চাপ ঈদের কেনাকাটায় প্রভাব ফেলেছে। তবে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টাটাই আনন্দ।

প্রতিষ্ঠার সাত দশকেও পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহির্বিভাগে নির্মাণ করা হয়নি বিশ্রামাগার। ফলে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাঁর স্বজনেরা। রোগী নিয়ে বহির্বিভাগের সামনে গাদাগাদি করে, কখনো খোলা মাঠে বা গাছতলায় বসে থাকতে হয় স্বজনদের।
৩ ঘণ্টা আগে
পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যমান কক্সবাজার পৌরসভাকে সম্প্রসারণ করে রামু ও কক্সবাজার সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের কিছু এলাকা অন্তর্ভুক্ত করে বৃহত্তর নগর প্রশাসন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
নাটোরের গুরুদাসপুরে খেলার মাঠ উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল শুক্রবার উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী হাট মাঠে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আনিছুর রহমান।
৩ ঘণ্টা আগে
জনবলসংকট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, অপারেশন থিয়েটার না থাকাসহ নানা সমস্যায় ধুঁকছে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীরা। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে তাদের জেলা শহরে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের সময় ও অর্থ—দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে