
পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি মাত্র তিন দিন। কিন্তু বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও বরিশাল নগরে কোরবানির পশু বেচাকেনা জমেনি। বরিশালের হাটগুলোয় গত বছরের তুলনায় এবার পশু কম উঠেছে। দর্শনার্থীদের অনেকে হাট ঘুরে গরু বা ছাগল দেখে দরদাম করেই ফিরে যাচ্ছে। একই অবস্থা চট্টগ্রামের হাটগুলোতেও। জেলাটিতে ৩৫ হাজার কোরবানির যোগ্য পশুর ঘাটতির মধ্যে হাট বসলেও ক্রেতা কম, দর্শনার্থী বেশি। গতকাল রোববার বিভাগীয় শহর দুটির বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
ক্রেতাদের ভাষ্য, বিক্রেতারা এবার কোরবানির পশুর দাম বেশি হাঁকাচ্ছে। এ জন্য তারা ঘুরে ঘুরে বাজার যাচাই করছে। তবে খামারি ও ব্যাপারীদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, গো-খাদ্য, শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ বিল ও পরিবহন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই বেশি দামে পশু বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রত্যাশিত দাম না পাওয়া নিয়েও তারা ক্ষতির শঙ্কা করছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৮১টি। বিপরীতে স্থানীয় খামারিদের কাছে কোরবানির যোগ্য গবাদিপশুর মজুত রয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি। অর্থাৎ প্রায় ৩৫ হাজার পশুর ঘাটতি রয়েছে। যদিও রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু কিনে এনেছে পাইকারেরা।
নগরীর বিবির হাট ও সাগরিকা গরুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি গরু-ছাগল নিয়ে বসে আছে বিক্রেতারা। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের পশু থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাচ্ছে না তারা। হাটে আসা মানুষের বেশির ভাগই বাজার যাচাই করছে। অনেকেই বলছে, তারা ঈদের এখনো কয়েক দিন বাকি থাকায় শেষ সময়ের অপেক্ষায় আছে।
হাটে আসা বাকলিয়ার বাসিন্দা জাহেদ উদ্দিন জানান, বর্তমানে বিক্রেতারা পশুর দাম অনেক বেশি হাঁকছে। ৫০-৬০ হাজার টাকার গরুর জন্য ৮০-৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।
সাতকানিয়ার চরতি অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক আব্দুল কুদ্দুস জানান, একসময় তাঁর খামারে প্রায় ১০০টি গরু ছিল, এখন আছে মাত্র ১৬টি। ক্রমাগত লোকসান ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তিনি খামার ছোট করতে বাধ্য হয়েছেন।
খামারসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ব্যাংকঋণ ও সরকারি প্রণোদনা প্রকৃত খামারিদের হাতে পৌঁছায় না। প্রয়োজনীয় টিকা ও ওষুধের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত সহায়তা মিলছে না।
চট্টগ্রামের প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেড় বছর আগেও জেলায় খামারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১২ হাজার ৫০০টি। বর্তমানে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তবে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, স্থানীয়ভাবে সামান্য ঘাটতি থাকলেও দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আসা পশু দিয়ে তা পূরণ হবে।
এদিকে বরিশাল নগরীর একাধিক পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন হাটে গবাদিপশু রাখার জায়গা করা হলেও তার অনেকাংশ ফাঁকা পড়ে আছে। হাটগুলোতে ক্রেতা এলেও তারা বাজার যাচাই করে ফিরে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দাম হাঁকানো হচ্ছে বাড়িতে পালিত গরুর। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বরিশালে চাহিদার তুলনায় স্থানীয় গরু-ছাগলের সরবরাহ বেশি। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবতা পাওয়া যায়নি।
নগরের সিঅ্যান্ডবি রোড থানা কাউন্সিল-সংলগ্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, ২০-২৫টি গরু, ছাগল নিয়ে বিক্রেতারা অপেক্ষা করছে। ক্রেতাও কম। হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন জানান, গত শনিবার থেকে তাঁরা গরু তুলেছেন। কয়েকটি বিক্রি হয়েছে। তবে এবার হাটে গরু কম এসেছে। বরিশাল অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ কোরবানির পশুর হাট চরমোনাইতে।
বরিশাল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্যমতে, বিভাগের ছয় জেলায় ছোট-বড় ৩ হাজার ৯১৫ জন খামারির কাছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৫টি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে। তবে এ বছর বিভাগে গরু ছাগলের সম্ভাব্য চাহিদা ৪ লাখ ৭৮৩টি।
বরিশাল জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কেবল ভাইরাসজনিত লাম্পি স্কিন নয়, অন্য রোগে আক্রান্ত গরু বাজারে বিক্রি হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মো. মাহফুজুল হক বলেন, অনেকে খামার ছাড়াও বাড়িতে ছোট আকারে এক থেকে দুটি গরু কিংবা ছাগল পালন করেন। ফলে এ অঞ্চলে হিসাবের থেকেও বেশি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে।

দেশীয় মোজাফফর জাতের লিচুর পাশাপাশি হাটবাজারে সুস্বাদু বোম্বে লিচুরও সরবরাহ বেড়েছে, দামও বেশ চড়া। তবে মিলছে না ক্রেতা। দুই-তিন দিন ধরে এ চিত্র লিচুর জন্য বিখ্যাত পাবনার ঈশ্বরদীর জয়নগর হাটে। এতে হতাশ লিচুচাষিরা।
৪১ মিনিট আগে
পবিত্র ঈদুল আজহা আগামী বৃহস্পতিবার। তাই পশুর হাটের পাশাপাশি জমে উঠেছে কামারের দোকানগুলো। হাপরের বাতাসে জ্বলে ওঠা কয়লার আগুনে লাল টকটকে লোহায় পড়ছে হাতুড়ির সজোর আঘাত। কোথাও চলছে ছুরি-চাপাতি তৈরির কাজ, কোথাও আবার পুরোনো দা-বঁটিতে শাণ দেওয়া।
১ ঘণ্টা আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পশুর হাটে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় গরু ও মহিষ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পদ্মা নদী দিয়ে নৌকায় করে এসব পশু জেলার তত্তিপুর, রামচন্দ্রপুর ও সোনাচণ্ডী পশুর হাটে এনে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১ ঘণ্টা আগে
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বসা অস্থায়ী গরুর হাটগুলোতে আনুষ্ঠানিক কেনাবেচা শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে জমে উঠছে বাজার। হাটগুলোতে ছোট, মাঝারি, বড় গরু, মহিষ, ষাঁড়, খাসি, উট নিয়ে হাজির বিক্রেতারা। তবে অতিরিক্ত গরম এবং হঠাৎ বৃষ্টিতে ভুগছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
১ ঘণ্টা আগে