
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এ মামলায় ইতিমধ্যে ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে আগামীকাল বুধবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৬ জন সাক্ষীই অভিযুক্ত সোহেল ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে সাক্ষ্য দেন। সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ সময় রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ সাক্ষীদের জেরা করেন। পরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আগামীকাল বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেন।
মামলায় প্রথম সাক্ষ্য দেন বাদী ও শিশুটির বাবা, এরপর মা ও পরে শিশুটির বড় বোন। এরপর পর্যায়ক্রমে সাক্ষ্য দেন শিশুটির ফুফু, চাচা, ওই বাসার চতুর্থ তলার বাসিন্দা, প্রতিবেশী, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা, পুলিশ কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্ত প্রস্তুতকারী চিকিৎসক নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন—রাষ্ট্র নিযুক্ত বিশেষ পি পি আজিজুল হক দুলু। ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের পরেই যুক্তিতর্ক শুনানি হবে। এরপর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
আজিজুল হক আরও বলেন, এক দিনে একটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হওয়ায় এটি একটি নজির সৃষ্টি হলো। রোমহর্ষক ও বীভৎস এই ঘটনার দ্রুত বিচার হওয়ার নজিরও স্থাপিত হবে।
জানা যায়, সাক্ষ্যগ্রহণের আগে অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কাঠগড়ার সামনের দিকে একটি চেয়ারে বসে ছিলেন স্বপ্না। অন্যদিকে তাঁর স্বামী সোহেল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেটসহ কাঠগড়ার এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরু হয়।
এর আগে গত ২৪ মে বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে সোমবার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এদিন অভিযোগ গঠনের পর আজ মঙ্গলবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (২)/৩০ ধারা ও দণ্ডবিধির ২০১/ ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ ও পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা এবং লাশ গুম করার জন্য গলা কেটে দুই ভাগ করা, যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা ও দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে তাঁর স্বামীর এসব কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামতসমূহের ফরেনসিক রিপোর্ট, ডিএনএ পরীক্ষা এবং লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থেকে প্রমাণিত হয় শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানা এলাকার একটি বাসা থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার সোহেল রানা ২০ মে আদালতে জবানবন্দি দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন।
আরও পড়ুন:

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সিলেটে নিহত চার বছরের শিশুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পল্লবীর শিশু হত্যা মামলার মতো সিলেটে শিশু হত্যা মামলার বিচারও দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধ
৫ মিনিট আগে
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চার্জলাইন থেকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) খুলতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে লালু মিয়া (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
২২ মিনিট আগে
নরসিংদীতে ফাহিম মিয়া (১৭) নামের এক ইজিবাইকচালককে হত্যা করে তার ইজিবাইকের ব্যাটারি লুটের অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার মধ্য-শিলমান্দী এলাকার জোড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন একটি পুকুরপাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
২২ মিনিট আগে
মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১১ বছর পর দেশে ফিরছিলেন ছেলে। তাঁকে আনতে ঢাকা বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন মা, ভাই-বোন ও স্বজনরা। কিন্তু বাড়ি ফেরা আর হলো না তাঁদের। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পরিবারের চার সদস্য। আর বাড়িতে থাকার কারণে বেঁচে গেছেন শুধু বাবা শহিদুল ইসলাম।
২৪ মিনিট আগে