Ajker Patrika

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: ক্যামেরা ট্রায়ালে বড় বোনের সাক্ষ্য

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: ক্যামেরা ট্রায়ালে বড় বোনের সাক্ষ্য
আদালতে হাজির করা হয় সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে। ফাইল ছবি

পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছে তার বড় বোন। কিশোরী হওয়ায় তার সাক্ষ্য নেওয়া হয় ক্যামেরার ট্রায়ালের মাধ্যমে।

মামলায় অভিযুক্ত সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

মামলার বাদী ও শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা প্রথমে, এরপর সাক্ষ্য দেন তার মা পারভীন আক্তার। পারভীন আক্তারের পর সাক্ষ্য দেয় ওই শিশুর বড় বোন। তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন বিচারক মাসরুর সালেকীন।

তবে শিশুটির বড়বোনের সাক্ষ্য গ্রহণের আগে রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত বিশেষ পিপি আজিজুল হক দুলু ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেন। তিনি বলেন, দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বড় বোনও শিশু। ক্যামেরা ট্রায়াল বা ক্লোজ ডোরে তার সাক্ষ্য নেওয়া হোক।

ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করেন এবং এজলাস কক্ষ থেকে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যতীত সবাইকে বের করে দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণের আগে অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। কাঠগড়ার সামনের দিকে একটি চেয়ারে বসে ছিলেন স্বপ্না। অন্যদিকে তার স্বামী সোহেল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেটসহ কাঠগড়ার একপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। জানা গেছে, জবানবন্দিতে শিশু বড় বোনও ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে।

গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কাজ শুরু হয়।

গত ২৪ মে বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

পরে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে সোমবার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। সোমবার অভিযোগ গঠনের পর আজ মঙ্গলবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি, অ্যাভিনিউ-৭-এর ৩৭ নম্বর বাসার পাঁচতলা ভবনের তিনতলার উত্তর পাশের কক্ষের বেডরুম থেকে আট বছরের শিশু পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মস্তকবিহীন মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কিছুক্ষণ পর রঙের বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্বপ্না আক্তার দাঁড়ানো ছিলেন। তিনি জানান, তাঁর স্বামী সোহেল রানা শিশুকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ করার পর মেরে ফেলে। পরে মরদেহ গায়েব করার জন্য ধারালো ছুরি দ্বারা গলা কেটে ফেলেন। কাঁধ থেকে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পুলিশকে খবর দেন এবং স্বপ্না আক্তারকে আটক করেন। পরে অভিযান চালিয়ে সোহেলকে আটক করে পুলিশ।

২০ মে ভোরে আব্দুল হান্নান পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, যে বাসা থেকে ওই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় তার পাশের বাসাই বাদীর বাসা। সকাল সাড়ে ৯টায় ওই শিশু বাসা থেকে বের হলে তাকে পাশের বাসায় নিয়ে আটকে রাখে। তাকে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত