Ajker Patrika

এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা

স্ত্রী ও তিন সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ শহিদুল, শোকে স্তব্ধ গ্রাম

যশোর ও ঝিকরগাছা প্রতিনিধি
স্ত্রী ও তিন সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ শহিদুল, শোকে স্তব্ধ গ্রাম
স্ত্রী-সন্তানদের হারিয়ে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন শহিদুল ইসলাম। ছবি: আজকের পত্রিকা

মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১১ বছর পর দেশে ফিরছিলেন ছেলে। তাঁকে আনতে ঢাকা বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন মা, ভাই-বোন ও স্বজনরা। কিন্তু বাড়ি ফেরা আর হলো না তাঁদের। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পরিবারের চার সদস্য। আর বাড়িতে থাকার কারণে বেঁচে গেছেন শুধু বাবা শহিদুল ইসলাম। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হারিয়ে এখন তিনি পাগলপ্রায়। এক পরিবারের চারজনের মৃত্যুর খবরে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

আজ মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় নিহত হন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের নুরজাহান বেগম, তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলাম ও রাকিবুল ইসলাম এবং মেয়ে আয়েশা বেগম। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান গাড়িচালকও। এ ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে আরিফুলের বোনের তিন বছর বয়সী মেয়ে ও ছয় বছরের ছেলে।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে আসতে শুরু করেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তাঁদের আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।

স্থানীয়রা জানান, পরিবারটির সুখের দিন ফিরেছিল অনেক কষ্টের পর। বড় ছেলে আরিফুল ইসলাম ১১ বছর আগে অভাবের সংসারের হাল ধরতে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে উপার্জিত অর্থে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরে। তাঁর দেশে ফেরাকে ঘিরে বাড়িতে ছিল উৎসবের আমেজ। আগামীকালই তাঁর পাত্রী দেখতে যাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে। দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হারিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শহিদুল ইসলাম। পরিবারের ৫ সদস্যের মধ্যে শুধু বাড়িতে থাকার কারণে বেঁচে গেছেন তিনি। স্বজনদের হারিয়ে পাগলপ্রায় শহিদুল ইসলাম।

আরিফুলের মামা নজরুল ইসলাম বলেন, আরিফ ১১ বছর বিদেশ ছিল। সোমবার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরে নেমেছিল। সন্তানকে আনতে গিয়েছিলেন মা নূরজাহান বেগম ও তাঁর দুই সন্তান, নাতি–নাতনি। ফেরার পথে একই পরিবারের চারজন মারা গেছেন। বাবা শহিদুল ইসলাম ছাড়া এখন পরিবারের আর কেউ থাকল না।

একই পরিবারের চারজনকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারি। ছবি: আজকের পত্রিকা
একই পরিবারের চারজনকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারি। ছবি: আজকের পত্রিকা

আরেক মামা আবদুল কাদের বলেন, ১৮ বছর বয়সে বিদেশ গিয়েছিল আরিফুল। অভাবের সংসার ছিল। এখন তাদের সুখের সংসার। যখন সুখ ভোগ করবে তখন পরিবারের চারজন চলে গেল।

মামাতো ভাই মিন্টু রহমান বলেন, ফরিদপুরে তাঁদের মরদেহ আনতে গেছেন স্বজনেরা। রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিস-উর রহমান বলেন, আরিফুলের মা নুরজাহান বেগম সংরক্ষিত ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করায় এলাকায় বেশ পরিচিত ছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে খোশালনগর-বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা ফায়ার স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর বলেন, ‘ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সংবাদ পেয়ে আমরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাইভেট কারের চালক ও যাত্রীদের উদ্ধার করি। এ সময় প্রাইভেট কারের চালক প্রাইভেট কারসহ ট্রাকের পেছনে আটকে ছিল। পরবর্তীতে প্রাইভেট কারটি কিছু অংশ কেটে চালকের লাশ উদ্ধার করা হয়।’ তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত