Ajker Patrika

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: আগস্টের শেষে তফসিল অক্টোবরে ভোটের চিন্তা

তানিম আহমেদ, ঢাকা 
আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ০৯: ৫৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচন: আগস্টের শেষে তফসিল অক্টোবরে ভোটের চিন্তা

চলতি জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি হালনাগাদ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপর আগামী আগস্টের শেষের দিকে তফসিল দিয়ে অক্টোবরে প্রথম ধাপের নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনে গতকাল সোমবার ঈদ পুনর্মিলনীতে কমিশনের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন।

ঈদের ছুটি শেষে গতকাল প্রথম কার্যদিবসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদ পুনর্মিলনী করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ কমিশনার ও ইসির সিনিয়র সচিব। সেখানে কর্মকর্তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী সবাইকে কাজ করতে বলা হয়েছে। সরকার যখনই নির্বাচন আয়োজনে লিখিত নির্দেশনা দেবে, তখন যাতে ভোট করতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সভায় আমাদের বলা হয়েছে অক্টোবরে প্রথম ধাপের নির্বাচন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য তফসিল দেওয়া হতে পারে আগস্টের শেষ দিকে।’

তবে কমিশনের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঈদ পুনর্মিলনী সভায় ভোটের সম্ভাব্য তারিখের কথা বলা হয়েছে। আমার মনে হয়, সেটি আরও মাসখানেক পেছানোর সম্ভাবনাও আছে। কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়ানোর জন্য হয়তো অক্টোবরে ভোটের কথা বলা হয়েছে।’

নির্বাচনের তফসিল কখন হতে পারে—এমন প্রশ্নে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তফসিল কবে হবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় সরকার বিভাগের ওপর, তারা কবে নাগাদ নির্বাচন চায়। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি তো চলমান।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আপনি যা শুনেছেন, তা কাছাকাছি (আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোট)। আজকে (সোমবার) এ ব্যাপারে সরাসরি কোনো আলাপ হয়নি। যদি অক্টোবরে নির্বাচন করতে হয়, তার জন্য দেড় মাস আগে তফসিল দিতে হবে। সরকারের নির্দেশনা পেলে আমরা সেটা করতে পারব।’

ঈদ পুনর্মিলনীর আলোচনার একপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ তোলেন। এ বিষয়ে দু-এক কর্মকর্তা তাঁদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। পরে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘জুন-জুলাই মাসের মধ্যে নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। আগামী আগস্ট মাস থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করব। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে যাতে ভোট গ্রহণ করা যায়, সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

জাতীয় সংসদের চেয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে মানের হয়েছে, ওই মানের চেয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও ভালো করতে হবে। কোনোভাবে ওই মানের নিচে নামা যাবে না।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শুরুতে ইউপি ও পৌরসভার নির্বাচন হবে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনই হবে কয়েক ধাপে। এরপর সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং সর্বশেষ ধাপে উপজেলা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। প্রায় সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সব নির্বাচন শেষ করতে ১০ থেকে ১২ মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসি বর্তমানে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য পৃথক বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধন করছে। সংশোধিত স্থানীয় সরকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা কার্যকর করতে এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯, পৌরসভা আইন, ২০০৯, উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮, জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ এবং সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯ সংশোধন করেছে, যা পরে সংসদে অনুমোদিত হয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধি তৈরি করতে একাধিক বৈঠক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে গতকালও বৈঠক করেন তাঁরা। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে বিধিমালা ও আচরণবিধির খসড়া করে মতামত নিতে ১৫ জুন ইসির ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হবে। তাতে সবাই মতামত দিতে পারবেন।

এ বিষয়ে কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ১৫ জুনের মধ্যে বিধিমালা ও আচরণবিধি তৈরি করে ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। তা আবার ১৫ দিন রাখতে হবে। সেখানে সবার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, নতুন গঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশন ছাড়া ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টির বেশি উপজেলা পরিষদ, ৩০০টির বেশি পৌরসভা এবং ৬১টি জেলা পরিষদের আইনগত জটিলতা ছাড়াই এসব নির্বাচন করা সম্ভব। এ ছাড়া প্রায় ৬০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের আইনগত সময়সীমা এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে, ফলে আগামী অক্টোবরের মধ্যে এসব নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। আরও ২ হাজার ৮০০ বেশি ইউপি নির্বাচনের ১৮০ দিনের গণনা জুলাই থেকে শুরু হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত