
এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদ ও তাঁর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই নির্দেশ দেন। সাইফুল আলম মাসুদের অন্য দুই ভাই হচ্ছেন এস আলম গ্রুপের ভাই চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ ও পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবিল হক পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।
আবেদনে বলা হয়, গত ২ জুলাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ অর্থ আত্মসাৎসহ অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা একে অপরের সঙ্গে যোগসাজশ করে, অপরাধমূলক অসদাচরণ এবং বিশ্বাস ভঙ্গ করে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে মিথ্যা দলিল তৈরি করে ঋণের নামে নেওয়া ১০৪ কোটি ২০ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৮ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের নামে ৩৪০ কোটি টাকা পাচার করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হয়। তবে দুদকের নজরে এসেছে যে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। কাজেই সাইফুল আলম, আব্দুস সামাদ ও আব্দুল্লাহ হাসানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হোক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে। একই সঙ্গে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত দুদকের আবেদন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম ও তার পরিবার এবং এস আলম গ্রুপের কর্ণধারদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিভিন্ন মামলা দায়ের হয়েছে। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংকের ১ লাখ ৯২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে, গত ২৮ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের ৯১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে, গত ২৫ মার্চ ১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ১৯ মে ১ হাজার ১০২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে, গত ২৮ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই মামলা, গত ১৯ আগস্ট ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৮৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে, গত ১০ সেপ্টেম্বর পে-অর্ডার জালিয়াতি করে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এবং গত ১১ সেপ্টেম্বর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ২০৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করে দুদক।
গত ১০ জুলাই এস আলম ও তাঁর ছেলেদের ১৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল এস আলম গ্রুপের ৪৩৪ দশমিক ৮৬ একর জমি এবং রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসের দুটি ফ্ল্যাট ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। গত ২৩ এপ্রিল শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে থাকা ১৫৯ দশমিক ১৫ একর জমি ক্রোকের আদেশ দেন ঢাকার আদালত।
গত ১৭ জুন এস আলম গ্রুপ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে থাকা ২০০ একর জমি, ১৭ এপ্রিল ১ হাজার ৩৬০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন আদালত। গত ১৬ জানুয়ারি এস আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ৩ হাজার ৫৬৩ কোটি ৮৪ লাখ ২১ হাজার টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন একই আদালত।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি ৩৬৮ কোটি ২৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা দামের ১৭৫ বিঘা সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন আদালত। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ৪৩৭ কোটি ৮৫ লাখ ২ হাজার ২৭৪টি শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ দেন আদালত। এসব শেয়ারের দাম ৫ হাজার ১০৯ কোটি টাকা।
এ ছাড়া গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁদের ৮ হাজার ১৩৩ কোটি ৫৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা দামের শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ দেন আদালত। গত ১০ মার্চ এস আলমের ১ হাজার ছয় বিঘা জমি এবং গত ৯ এপ্রিল তাঁর ৯০ বিঘা জমি ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়। একই দিন আদালত তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের নামে থাকা ৩৭৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন।
গত ২৪ জুন এস আলম ও তাঁর স্ত্রী ফারজানা পারভীনের নামে থাকা ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড ও ব্রিটিশ রাজার অধীনস্থ দ্বীপরাষ্ট্র জার্সির ২৫ কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধ এবং এস আলমের নামে থাকা সাইপ্রাসের দোতলাবিশিষ্ট বাড়ি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ৯ জুলাই এস আলমের ৫৩টি হিসাবে থাকা ১১৩ কোটি ৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৬৮ টাকা অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে এস আলম গ্রুপের পরিবারের সদস্যদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
আরও খবর পড়ুন:

দক্ষিণ চট্টগ্রামে আকস্মিক বন্যার পর পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করেছে। এবারের বন্যায় জেলার অন্তত ২০ হাজার নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বন্যার দূষিত পানিতে দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণে অনেকের শরীরে ছত্রাক সংক্রমণ, শিশুদের জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া ও চর্মরোগ দেখা দিয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
এক বছর ধরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহযোগিতায় নগর শাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই সড়ক সংস্কার ও নালা নির্মাণের কাজ চলছে। দুটি প্যাকেজে ৩৬ কোটি ৮৬ লাখ ৩৩ হাজার ২৫৭ টাকার চুক্তিমূল্যে ১২ স্থানে সাড়ে ৭ কিলোমিটার রাস্তা ও ১৫ স্থানে সাড়ে ১০ কিলোমিটার নালা নির্মাণের কাজ চলছে।
৩ ঘণ্টা আগে
সন্ধ্যা গড়াতেই শ্রাবণের বৃষ্টি আরও ঘন হয়ে নামে। শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনের কার্নিশ ছুঁয়ে মাধবীলতার পাতায় জমতে থাকে বৃষ্টির ফোঁটা। এমন বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় মিলনায়তনে ভেসে আসে সুরের মূর্ছনা—‘আকাশে আজ ছড়িয়ে দিলাম প্রিয়, আমার কথার ফুল গো–কুড়িয়ে তুমি নিও’।
৩ ঘণ্টা আগেনাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় ছাড় (রিবেট) সুবিধা দিয়েও হোল্ডিং ট্যাক্সের (পৌর কর) প্রায় ২ কোটি টাকা আদায় হচ্ছে না। এ কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২৫ মাসের বকেয়া বেতন । অপর দিকে ব্যাহত হচ্ছে পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম। পৌরসভার কর বিভাগের দাবি, নাগরিক পর্যায়ে কর আদায় হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান...
৩ ঘণ্টা আগে