
মেধা থাকলেই সাফল্য পাওয়া যায়, সব সময় এমন নাও হতে পারে। অনেক সময় মানুষের কিছু অভ্যাস ও মানসিকতা এগিয়ে যাওয়ার পথ আটকে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ম্যাথার্স বলেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে অপ্রকাশিত সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু কিছু অভ্যাস অনেকের সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই নতুন বছরের শুরু থেকে বাদ দিন ৭ অভ্যাস।
অতীতে আটকে থাকা
আপনাকে সব সময় একই থাকতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জীবনের কোনো এক সময়ে কেউ হয়তো আপনার গণিতে দুর্বলতা নিয়ে কথা বলেছে। কোনো আত্মীয় হয়তো আপনাকে অলস বলেছে। কিন্তু তাই বলে সেসব মন্তব্য মাথায় নিয়ে বসে থাকার কোনো কারণ নেই। মানুষের দক্ষতা ও সক্ষমতা সব সময় এক থাকে না। সময়ের সঙ্গে, চেষ্টা করলে অনেক কিছু বদলে ফেলা যায়। অ্যালেক্স ম্যাথার্স বলেন, এসব মন্তব্য মানুষ করবেই। কিন্তু সমস্যা হয়, যখন আমরা সেই ধারণাগুলোকে নিজের পরিচয় বলে ধরে নিই। অনেকে মনে করেন, নিজেকে বদলাতে হলে আগে আত্মবিশ্বাস বা সঠিক সময় দরকার। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
ফলে নতুন বছর শুরু করুন ইতিবাচকতা দিয়ে। বদলে ফেলুন নিজের অতীতমুখিতা।
সবাইকে খুশি করার ভয়
সফল হতে চাইলে আগে এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে যে, সবাই আপনাকে পছন্দ করবে না। জীবনে যতই ভালো কাজ করুন না কেন, এমন মানুষ থাকবে যারা আপনাকে ভুল বুঝবে বা সমালোচনা করবে। তাই সব সময় অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গেলে অনেক সময় উল্টো ফল হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সবার মন জোগানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক মানুষ দীর্ঘদিন মানসিক চাপ ও ক্লান্তিতে ভোগে। সবকিছুতে ‘হ্যাঁ’ বলার অভ্যাস মানুষকে ভেতরে-ভেতরে নিঃশেষ করে দেয়। এই মানসিক চাপ কাজের মনোযোগ কমিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত সাফল্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
কী, বহুবার শোনা কথা মনে হচ্ছে? যত দিন নিজেকে না বদলাচ্ছেন, তত দিন নতুন করে এসব কথা শুনতেই হবে আপনাকে। তার চেয়ে ভালো বরং নিজেকে বদলে ফেলা—অন্যের ক্ষতি না করে নিজের মতো করে চলা।
নিজের সক্ষমতার চেয়ে কম করে কাজ করা
বেশির ভাগ মানুষ প্রয়োজনের বেশি চেষ্টা করে না। যতটুকু করলে চলে ততটুকুতেই থেমে যায়। কিন্তু এতে জীবন এগোয় না। এভাবে চলতে থাকলে অজান্তেই মানুষ পিছিয়ে পড়তে শুরু করে। জীবনে সব সময়ই প্রতিযোগিতা থাকে। তাই থেমে গেলে চলবে না। নিজের সামর্থ্য বাড়াতে হবে এবং নিয়মিত উন্নতির চেষ্টা করতে হবে। ধারাবাহিক পরিশ্রম আর নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা ছাড়া প্রকৃত সক্ষমতা প্রমাণ করা সম্ভব নয়।
এখানেও কি উপসংহারে লিখতে হবে, নিজেকে প্রমাণ করার জন্য ধারাবাহিকভাবে পরিশ্রম করে যান?
পরিস্থিতিকে দোষ দেওয়া
ব্যর্থ মানুষেরা সাধারণত সমস্যাকে স্থায়ী এবং নিজেদের অযোগ্যতার ফল বলে মনে করে। অন্যদিকে সফল মানুষেরা ব্যর্থতাকে সাময়িক ও পরিস্থিতিগত বিষয় হিসেবে দেখে। ‘আমার প্রতিভা নেই’ বা ‘পরিবেশ অনুকূলে নয়’—এসব আসলে মানসিক অজুহাত। যখন আপনি এসব ভাবনা ঝেড়ে ফেলতে পারবেন, দেখবেন নিজে চেষ্টা করে যাচ্ছেন সাফল্য পেতে।
কাজ অর্ধেক রেখে দেওয়া
সফল মানুষদের একটি সাধারণ অভ্যাস হলো, কাজ শেষ করা। অ্যালেক্স ম্যাথার্স বলেন, ছোট কাজ থেকেই শুরু করা উচিত। যেমন বাসন ধোয়া হলে পুরো শেষ করা, ঘর পরিষ্কার করলে ভালোভাবে পরিষ্কার করা। এই অভ্যাস ধীরে ধীরে পুরো কাজ শেষ করতে পারার মানসিকতা তৈরি হয়, যা জীবনের সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।
একঘেয়েমিকে ভয় পাওয়া
অনেকে একটু একঘেয়েমি লাগলেই মোবাইল ফোন হাতে তুলে নেন। কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢোকেন বা কখনো ভিডিও দেখে সময় কাটান। মনে হয়, এতে বিরক্তি কমবে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এই অভ্যাস আসলে মানুষকে আরও অস্থির ও অসন্তুষ্ট করে তোলে। সফল মানুষেরা বিষয়টা অন্যভাবে দেখে। তারা সব সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চায় না। একটু নীরবতা, একটু একঘেয়েমিকে তারা মেনে নিতে শেখে। এই সময়েই তাদের মন শান্ত হয়, আর নতুন আইডিয়া আসার সুযোগ তৈরি হয়।
সাফল্যকে প্রয়োজন মনে না করা
অ্যালেক্স ম্যাথার্সের মতে, যদি সাফল্যকে আপনি শুধু সম্ভাবনা হিসেবে দেখেন, তাহলে গড়পড়তা জীবনই আপনার ভবিষ্যৎ হয়ে দাঁড়াবে। সাফল্যকে নিজের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে। আপনার কাছে সাফল্যের মানে কী, তা স্পষ্টভাবে ঠিক করে সেই অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলাই এগিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি।
এই ৭ অভ্যাসের নেতিবাচক দিকগুলো নিশ্চয়ই অনুভব করতে পারছেন। তা করলে এবার শুরু করুন। জীবনে সাফল্য লাভ আপনার নিজের জন্যই শুধু জরুরি নয়। বরং এটি আপনার পরিবার ও কাছের মানুষদের জন্যও আনন্দের বিষয়। এগিয়ে যান। শুভ নববর্ষ।
সূত্র: ভিএন এক্সপ্রেস

ফ্রেন্ডশিপ ও রিলেশনশিপের মতো রোমাঞ্চকর শব্দ এখন বিগত দিনের গল্প। এগুলো ছাড়িয়ে গত কয়েক বছরে দাপিয়ে বেড়িয়েছে ‘সিচুয়েশনশিপ’ নামের শব্দটি। সিচুয়েশন অর্থাৎ পরিস্থিতির চাপে পড়ে এ শব্দটি এখন প্রায় বাতিলের খাতায়। তালিকায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে ‘ন্যানোশিপ’। নাম থেকেই বুঝতে পারছেন...
৯ ঘণ্টা আগে
পুরোনো দিনে ভালোবাসার সমীকরণ ছিল একদমই আলাদা। কখনো চিঠির ভাঁজে, কখনোবা জানালার ওপাশে একপলক দেখার দীর্ঘ প্রতীক্ষায় প্রেম খুঁজে নিত মানুষ। সেই প্রেম ছিল রক্তমাংসের মানুষের সঙ্গে। সেখানে মান-অভিমান আর খুনসুটির এক জীবন্ত অনুভূতি থাকত। কিন্তু আধুনিক যুগের ব্যস্ততা আর একাকিত্ব ভালোবাসার সেই চিরচেনা ঠিকানা
১১ ঘণ্টা আগে
গনগনে গরমে চকমকে পোশাক তো দূরের কথা গাঢ় রঙের পোশাকও আমরা প্রায় এড়িয়ে চলি। এই গরমে পোশাকে যদি থাকে সাদার স্নিগ্ধতা ও আভিজাত্য, তাহলেই যেন সবচেয়ে ভালো হয়। বৈশাখের এই সময়টায় নিজেকে সাজিয়ে নেওয়া যেতে পারে সাদার মায়ায়। সাদা এমন একটি রং, যা সবাইকে খুব ভালোভাবে মানায়।
১২ ঘণ্টা আগে
গ্রীষ্মের দুপুরে রান্নাঘরে কাজ করতে করতে টক-ঝাল-মিষ্টি কিছু খেতে মন চাইছে? বাড়িতে পেয়ারা থাকলে সহজেই তৈরি করে ফেলতে পারেন পেয়ারা মাখা। আপনাদের জন্য রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
১৪ ঘণ্টা আগে