Ajker Patrika

সরকারি জমিতে অনুমোদনহীন পশুর হাট বসিয়ে হাসিল আদায়ের অভিযোগ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
সরকারি জমিতে অনুমোদনহীন পশুর হাট বসিয়ে হাসিল আদায়ের অভিযোগ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে
সরকারি জমিতে অনুমোদন ছাড়াই বসানো হয়েছে কোরবানির পশুর হাট। ছবি: আজকের পত্রিকা

সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর বাজার সংলগ্ন সরকারি জমিতে অনুমোদন ছাড়াই কোরবানির পশুর হাট বসিয়ে হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, চলতি বছরে ইজারা দেওয়া ১৫টি পশুর হাটের তালিকায় সাদুল্লাপুর পশুর হাটের নাম নেই। এরপরও সেখানে প্রকাশ্যে কোরবানির পশু কেনাবেচা চলছে, ক্রেতাদের কাছ থেকে শতকরা ৫ টাকা হারে হাসিল আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি খোরশেদ আলমসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা সরকারি জমিতে এই পশুর হাট বসিয়েছেন। এ জন্য তাঁরা সরকারের কোনো অনুমোদন বা ইজারা নেননি।

অভিযোগের বিষয়ে বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমরাই সাদুল্লাপুর বাজারের ইজারাদার। সে কারণেই বাজার সংলগ্ন সরকারি জমিতে পশুর হাট বসানো হয়েছে। এলাকার মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করেই এই উদ্যোগ।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি করার কারণে ১৫ বছর জেল-জুলুম সহ্য করেছি। এখন আর এসবের ভয় পাই না। মানুষের সুবিধার জন্য পশুর হাট বসিয়ে যদি জেল খাটতে হয়, তাতেও আমার দুঃখ নেই।’

আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তুরাগ নদীর তীরঘেঁষা সাদুল্লাপুর বাজার এলাকায় বসানো হয়েছে অস্থায়ী পশুর হাট। হাটে সাদুল্লাপুর ও আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ গরু-ছাগল নিয়ে এসেছেন। ক্রেতাদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজধানীর মিরপুর এলাকার লোকজনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

হাটের প্রবেশমুখে কয়েকজন যুবককে পশুর বিক্রয়মূল্যের ওপর শতকরা ৫ টাকা হারে হাসিল আদায় করতে দেখা যায়। তবে সেখানে সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উপস্থিতি দেখা যায়নি। হাট সংশ্লিষ্ট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্থানীয় খামারিদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই ছোট পরিসরে এই পশুর হাট বসানো হয়েছে।

মিরপুরের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছেন। এ জন্য তাঁকে শতকরা ৫ টাকা হার হাসিল দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সাদুল্লাপুর পশুর হাটের বেশির ভাগ গরুই স্থানীয় লোকজনের। এখানে ভিড় কম, দামও সাধ্যের মধ্যে। হাসিলও তুলনামূলক কম নিচ্ছে। এসব বিবেচনায় মিরপুর থেকে এখানে গরু কিনতে এসেছি। হাটটি বৈধ না অবৈধ, সেটা আমার কাছে বিবেচ্য নয়।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ইজারা ছাড়া অবৈধভাবে পশুর হাট বসানো হলে সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী পাঠিয়ে সরকারিভাবে হাসিল আদায় করা হবে।’ তবে মঙ্গলবার হাটে গিয়ে এমন কোনো সরকারি তৎপরতা দেখা যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত