Ajker Patrika

নবাবগঞ্জ-দোহার: শীতের মধ্যেও লোডশেডিং দুই উপজেলায় ভোগান্তি

  • এলপি গ্যাস-সংকটের মধ্যে বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা কিনেও দুর্ভোগ কাটেনি
  • প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ
নবাবগঞ্জ ও দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি
নবাবগঞ্জ-দোহার: শীতের মধ্যেও লোডশেডিং দুই উপজেলায় ভোগান্তি
প্রতীকী ছবি

‘অনেক দিন ধরে গ্যাস-সংকট চলছে। রান্নাবান্নার জন্য বিকল্প হিসেব ইলেকট্রিক (বৈদ্যুতিক) চুলা ব্যবহার করছি। কিন্তু তা-ও রান্না শুরু করলে শেষ করতে পারছি না। লোডশেডিংয়ের (বিদ্যুৎ-বিভ্রাট) কারণে দিনের রান্নার কাজ একটানা শেষ করা যায় না। রান্নার মধ্যে বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে সময়মতো রান্না-খাওয়া নিয়ে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’ লোডশেডিং নিয়ে দুর্ভোগের কথাগুলো ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের বাগমারার গৃহবধূ উম্মে আহিরার। শুধু উম্মে আহিরা নন, এমন অভিযোগ নবাবগঞ্জ ও পাশের উপজেলা দোহারের বাসিন্দাদের।

উপজেলা দুটির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক দিন ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট চলছে। বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাসের সিলিন্ডার সরবরাহ কম। রান্নার কাজে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছে। কিন্তু লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় সেই চুলাও ঠিকঠাক ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে নবাবগঞ্জ ও দোহারের বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়া হয়।

নবাবগঞ্জের যন্ত্রাইল, বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর, কলাকোপা, বাহ্রা, বক্সনগর, আগলা, চুড়াইন, গালিমপুর, শোল্লা, কৈলাইল, নয়নশ্রী ও বান্দুরা ইউনিয়ন এবং পাশের দোহার পৌরসভা ও বিলাসপুর, কুসুমহাটি, মাহমুদপুর, নারিশা, নয়াবাড়ী, রাইপাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নে প্রতিদিনই তীব্র লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রাজু বলেন, বিদ্যুৎ যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় না থাকায় হঠাৎ করেই কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে।

বক্সনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা দিলীপ গোমেজ বলেন, শীত মৌসুম চলার কারণে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি কিছুটা কম। তবে গ্রীষ্মের মৌসুমে এমন লোডশেডিং থাকলে ভোগান্তির শেষ থাকবে না।

বাহ্রা ইউনিয়নের গৃহবধূ রাকিবা বলেন, ‘আমাদের টিউবওয়েল নেই। মোটর দিয়ে পানি তুলতে হয়। কিন্তু ঠিকঠাক বিদ্যুৎ না পাওয়ায় মোটর দিয়ে পানি তোলা যাচ্ছে না। অনেক সময় ট্যাংকে পানি শেষ হলে কারেন্ট না থাকলে কাজকর্ম বন্ধ করে বসে থাকতে হয়।’

দোহারের সুতারপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে। বাচ্চাদের লেখাপড়ারও ব্যাঘাত ঘটছে।

মাহমুদপুরের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি আলী আজম বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। অনেক কাজ জমে আছে, কিন্তু সঠিক সময় শেষ করতে পারছি না। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মামুন অর-রশীদ বলেন, ‘জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাচ্ছি। কখনো চাহিদার অর্ধেক, কখনো ৬০ শতাংশ আবার কখনো ৭০ শতাংশ পাচ্ছি। যখন যেমন পাচ্ছি, তেমনই সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে আশা করছি, দ্রুত এই সংকট সমাধান হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত